Posts

|| গল্পে গল্পে রাগ নিয়ন্ত্রণ ||

Image
এলাকায় যদি সৎ ও ভালো ছেলে বলে কেউ থেকে থাকে তবে এক কথায় হৃদয় ছেলেটা প্রথম ক্যাটাগরীতে। কেউ কখনো তাঁকে কোনো অসামাজিক-অশালীন কার্যকালাপে দেখে নি। ইদানীং একটু বিগড়ে গেলেও আবারো সে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে বেশ। আগে অল্পতেই তেতে যেতো। রাগের মাথায় কাকে কী বলতো হুঁশ থাকতো না। এই বিষয়টা এখনো ছাড়তে পারে নি সে।  বাসায় রাগ করলে তো কথায়ই নেই। কাঁচের গ্লাস, স্টীলের বাটি, প্লাস্টিকের ঝুঁড়ি -সব এক  আ ছাড়ে নিমিষেই চুরমার করে ফেলে। এতে করে তার রাগ নাকি হালকা হয়।  আ জো কী একটা কারণে এ কাজটাই করলো সে। পাশের গ্রামের তানিম। বেশ নামডাক  আ ছে ভালো ছেলে হিসেবে।  আ সোলে যতোটা নামডাক  আ ছে, তানিম সেই নাম ডাকের চেয়েও শতোগুণ বেশিই ভালো বলে মনে করে হৃদয়। হৃদয়ের জীবনের মোড় পরিবর্তনের অন্যতম দিকপাল এই তানিম। ছেলেটার মুখে কুচকুচে কালো চাপ দাড়ি। ঘন গাঁঢ়ো মাথাভর্তি কোঁকড়ানো কালো চুল। মাঝেমধ্যে ধবধবে শাদা একটা টুপি থাকে মাথায়। প্যান্টটাও পরে গোড়ালির ওপর ভাঁজ করে। অবশ্য সে প্যান্ট  আ জ ক'বছর গোড়ালির ওপরই সেলাই করে। কিনলেও বাড়িতে  আ নার  আ গে হোসেন দর্জির কাছে সেলাই করে নিয়ে  আ...

||সত্য খোঁজে যে—সত্য পায় সে||

Image
চারদিকের মানুষগুলো কেমন অদ্ভুত ! কাঠ , পাথর ও মাটির তৈরি জিনিসপত্রের সামনে নত হয়ে মস্তিষ্ক ঠেকিয়ে দেয়। তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। সে-সবের সামনে বিড়বিড় করে কী কী যেনো বলে যায় অবিরাম ! এই মানুষগুলো কেমন ! কী করছে তারা! কীভাবে নিজ হাতে তৈরি জিনিসপত্রের সম্মুখে মাথাটা ঠেকিয়ে দেয় এভাবে ? আবার সাহায্যও চায় ! করজোড়ে মিনতি করে ! স্রষ্টা ডাকে, স্রষ্টার অংশিদার ভাবে । এ- কীভাবে সম্ভব! নিজের বানানো জিনিসটাকে নিজেই....আবার কিছুদিন পর আরো কিছু বানায় ,সেগুলোকে ফেলে দেয় পানিতে । বিসর্জন দিয়ে দেয় । আবার তাদের সামনেই নত হয়ে পড়ে ! নাহ , এসব কিচ্ছু তাঁর মাথায় ঢুকছে না । এসব কী হচ্ছে ! এসব কীভাবে স্রষ্টা হয় !! সত্যটা কী তা খুঁজতে হবে । আসোল স্রষ্টাকে তা জানতে হবে । আমাকেই খুঁজে বের করতে হবে তা— এই তাঁর ভাবনা , এই তাঁর ইচ্ছে। সত্যের খোঁজে উতলা আজ তাঁর মন-মনন । সারাক্ষণ সারাদিন তার মগজের ভাঁজে ভাঁজে বিপুল ভাবনা! সেই ভাবনার উঠোনের পিঠে যেনো সর্বক্ষণ তাগড়া ঘোড়ার দৌড়াদৌড়ি! যেখানেই যান তিনি স্রষ্টাকে খোঁজেন ,তাঁর উপস্থিতি ,তাঁর অস্তিত্ব অনুসন্ধান করেন । দিন যায় সাঁঝ আসে । বিকেল গড়িয়ে নামে সন্ধ্যে । তাঁর ...

‘বিয়ে ও ডিমান্ড’

Image
 মেয়ে এক্সট্রিমলি হ্যান্ডসাম সুদর্শন সু-ছেলেও চায়, চায় টাকা এবং শিক্ষাও। আবার দ্বীনদারিতাও। কী অদ্ভুত! মেয়েটা আসলে ভণ্ড। মুখোশধারী। উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট টাইপের মেয়ে! আসলে মাইয়্যার জাতই খারাপ। ছেলেটার গায়ে আগাগোড়া একটা জোব্বা। গালভরা দাড়ি। দ্বীন-ধর্মের স্ট্যাটাসে ফেসবুক-টুইটারও সয়লাব করে রাখে। কিন্তু তবুও তার সে-কী ডিমান্ড বিয়ের ক্ষেত্রে। মেয়ে অল্প বয়স্কা হতে হবে। দেখতে সুদর্শনা হতে হবে। ভালো ফিগার— স্লিম, ধবধবে ফর্সাত্বকওয়ালা হতে হবে। উঁচা-লম্বাও হতে হবে। আবার চায় শিক্ষা-দীক্ষা এবং পরহেজগারিতাও। একেবারে সবই চায়! এত কিছু একসাথে খোঁজে আবার ফেসবুকে-টুইটারসহ বাস্তব  ময়দানেও ইসলাম নিয়ে সুন্দর সুন্দর কথাও বলে, হরহামেশা তালিম-তাবলীগ করেও বেড়ায়!  আসলে এরা ভণ্ড। লেবাসধারী, মুখোশধারী। এদের বাস্তব জীবনে কথিত দ্বীনদারিতার ছিটেফোঁটাও নেই। বিয়ের ক্ষেত্রে এদের এত এত ডিমান্ড থাকবে কেন— হুম?! আসলে পুরুষজাত বলে কথা! এদের নারীর রূপ-যৌবন দিয়ে নিজ নয়ন শীতল করাই লাগবে! এত্ত এত্ত লোভী এরা..... এই যে ওপরের বাক্যগুলো, এগুলো আমরা আমাদের আশপাশ থেকে প্রায়শই শুনে থাকি। আমাদের আশপাশের অনেক লোকজনই ...

ইনবক্সের কথাগুলোরও হেফাজত করুন এটাও একটা আমানত।

Image
  কেউ একজন একটা ম্যসেজ করেছে, কেউ একটা ইমেইল করেছে, ইনবক্সে এসে একটা সংবাদ বা তথ্য দিয়েছে। এই যে ইনবক্সে বলাটা, ইমেইল করাটা -এটা হয়তো খুবই নরমাল একটা বিষয়। এতোটা জটিল নয়। বলার সময় আপনার কাছে হয়তো বলেও দেয় নি যে এই বিষয়টা কারো সাথে শেয়ার করবেন না, হালকাভাবেই বলেছেন। তবুও আমার উচিত হবে না তার অনুমতি ছাড়া বিষয়টা কারো সাথে শেয়ার করা। কারো সাথে বলা। বুঝতে হবে আমি মানুষ হিসেবে অন্য আরেকজনের আরেকটা কথা এবং তথ্যও আপনার-আমার কাছে আমানত। হয়তো যা আপনার কাছে তিনি বলেছেন , সেই কথাটা অন্য কারো সাথেই তিনি আর বলেন নি। এখন আপনি এই কথাটা আরেকটা জায়গায় বা আরেকজনের সাথে প্রকাশ করার সাথে সাথে লোকটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যাবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়তো তার জন্য একটু কঠিন হয়ে যাবে। সে জন্য আমাদের উচিত নয় কাউকে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সামনে ঠেলে দেয়া। এই জন্যে মনে রাখা উচিত ইনবক্সে বলা কথাটাও একপ্রকার আমানত ! সে আমানতের খেয়ানত করাটা কাম্য নয়। মহানবী সা: বলেছেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারী নেই তার ঈমান নেই, আর যে অঙ্গীকার রক্ষা করে না, তার দ্বীন নেই’ (অসুনানে বায়হাকি, শুয়াবুল ঈমান, মিশকাত, পৃষ্ঠা ১৫)। এ...

আত্মপরিচয় হারাতে থাকা মুসলিমদেরকে জাগ্রত করার নায়ক ইমাম হাসান আল বান্না (রহ.)

Image
  আজ ১২-ই ফেব্রুয়ারি। মিশরের অধিবাসী ইমাম হাসান আল বান্না (রহ.)- এর শাহাদাত বার্ষিকী। হাসান আল বান্না জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৬ সালের ১৪ অক্টোবর। মুসলিমরা যখন রাজনৈতিক, আদর্শিকসহ নানাভাবে সংকীর্ণতার জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলো, নিজেদের মন-মানসিকতা, ঈমান-আকিদা যখন সাম্রাজ্যবাদ-বস্তুবাদ-নাস্তিকতার সংস্কৃতিতে তলিয়ে যাচ্ছি্লো, যখন তাঁরা নিজেদের মত-পথ, নিজেদের আত্মপরিচয় ভুলতে বসেছিলো; হুবহু সে সময়ই ইসলামী রেনেসাঁর আওয়াজ নিয়ে আবির্ভুত হন বিগত শতাব্দির অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ইমাম হাসান আল-বান্না (রহিমাহুল্লাহ)! বিংশ শতাব্দির ইসলামি রেনেসাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ইমাম ইসলামকে বাস্তবে মানুষের একমাত্র জীবনব্যবস্থা ও কুরআনকে এই ব্যবস্থার একমাত্র সংবিধান বলে মনে করতেন। এবং সেটা তিনি ব্যক্তিগত দাওয়াতের মাধ্যমেও মানুষের সামনে তুলে ধরতেন। তিনি পাশ্চাত্যের বস্তুবাদ, ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদ এবং মিশরের কিছু দুনিয়াদার-দরবারি আলেমদের সমালোচনা করেন। এরপর এক সময় তিনি বস্তুবাদ, নাস্তিকতাবাদ, সাম্রাজ্যবাদের অসারতার বিরুদ্ধে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধানকে প্রতিষ্ঠা করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে ইখওয়ানুল মুসলিমিন নামক একটা সং...