Posts

ক্ষমতার লড়াই: গণতন্ত্র যখন প্রতিহিংসার শিল্প

Image
  ০১. ক্ষমতার জন্য মানুষের লড়াই বহু প্রাচীন। রাজা-বাদশাহদের সাম্রাজ্য বিস্তার থেকে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের রাজনীতি— সব যুগেই ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে সংঘাত, ষড়যন্ত্র, হত্যা ও প্রতিহিংসার অসংখ্য উদাহরণ আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষমতার মধ্যে এমন কী আছে, যার জন্য মানুষ কখনও কখনল নিজের মানবিকতা পর্যন্ত বিসর্জন দিতে প্রস্তুত হয়, এমনকি দিয়েও দেয়? মূলত ক্ষমতা শুধু শাসন করার অধিকার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সম্পদ, মর্যাদা ও অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ।  মানুষ যখন ক্ষমতাকে নিজের পরিচয় ও অস্তিত্বের অংশ বানিয়ে ফেলে, তখন ক্ষমতা হারানো তার কাছে কেবল সাধারণ একটি পরাজয় থাকে না; বরং তা হয়ে ওঠে অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ।  ভিন্ন রাজনৈতিক দল কিংবা আদর্শ তখন প্রতিদ্বন্দ্বী আর প্রতিযোগী থাকে না, হয়ে ওঠে শত্রু। আর প্রতিদ্বন্দ্বীকে শত্রু হিসেবে দেখতে শুরু করলে তাকে পরাজিত করার চেয়ে নির্মূল করার আকাঙ্ক্ষাই প্রবল হয়ে ওঠে।  ক্ষমতার এই প্রাচীন ও বিষাক্ত লড়াইকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গণতন্ত্র।  অস্ত্রের পরিবর্তে ভোট, যুদ্ধের পরিবর্তে নির্বাচন— ক্ষমতা পরিবর্তনের একটি ...

তালাক

Image
 সরীহ তালাক (স্পষ্ট শব্দের তালাক) দুই প্রকার।  ১। সরীহ রজয়ী ২। সরীহ বায়েন আর সরীহ রজয়ী তালাক সেটি, যার মধ্যে পাঁচটি শর্ত একসাথে পাওয়া যায়। যথা: প্রথম শর্ত:  এর বাক্যটি طلاق (তালাক)-এর হরফগুলো বা বর্ণগুলো সম্বলিত হতে হবে। যেমন—স্বামী তার স্ত্রীকে বলল: "طلقتك" (আমি তোমাকে তালাক দিলাম), "انت طالق" (তুমি তালাকপ্রাপ্তা), এবং "مطلقة" (তালাকপ্রাপ্তা)—যা তাশদীদযুক্ত। পক্ষান্তরে হালকা বা তাশদীদ ছাড়া "مطلقة" শব্দটি ঘরের বন্দিশাখা থেকে মুক্তি বা বাইরে যাওয়ার অনুমতির অর্থও বোঝাতে পারে, তাই এটি রূপক বা 'কিনায়া' হিসেবে গণ্য হয়। সরীহ বা স্পষ্ট তালাকের অন্তর্ভুক্ত হলো স্বামীর এই কথা: "كوني طالقة" (তুমি তালাকপ্রাপ্তা হও) অথবা "تكوني طالقة" (তুমি তালাকপ্রাপ্তা হও)। কেননা 'তাকুনি' শব্দটি যদিও ভবিষ্যতের অর্থ দেয়, তবে প্রচলিত প্রথা বা উরফে এটি বর্তমানকালের অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এমনকি যদি সে স্ত্রীকে বলে: "أطلقك" (আমি তোমাকে তালাক দিচ্ছি) এবং তার এই ব্যবহার সাধারণত বর্তমানকালের জন্যই হয়ে থাকে, তবে এর মাধ্যমেও তালাক পতিত...

নির্ভরতার নীড়

Image
মানুষ খুঁজতে গেলে পারফেক্ট মানুষ খুঁজবেন না। পারফেক্ট মানুষ বলে কিছু নেই।  যে দেখতে ভালো, তার মেজাজ খারাপ। যার মন ভালো, তার হয়তো কথা বলার ধরনটা খারাপ। কেউ খুব যত্নশীল, কিন্তু ভীষণ রাগী। কেউ আবার খুব শান্ত, কিন্তু তার ওপর ভরসা করা যায় না। মানুষ এমনই। তাই এমন একজন মানুষ খুঁজুন, যার কাছে গিয়ে আপনাকে অন্য একজন, ভিন্ন মানুষ সাজতে হয় না। সারাক্ষণ কী বলছি, কী করছি, কীভাবে তাকাচ্ছি— এসব নিয়ে হিসাব করতে হয় না।  মন খারাপ হলে চুপ করে থাকা যায়। ভুল করলে স্বীকার করা যায়। দুর্বল লাগলে দুর্বল হওয়া যায়। যার সামনে কাঁদতে গেলে লজ্জা লাগে না। সুন্দর মানুষ দেখে ভালো লাগতেই পারে। রূপ দেখে মুগ্ধতা আসতেই পারে। বিত্তবৈভব দেখে আকর্ষণ ফিল হতেই পারে।  প্রথম প্রথম সত্যিই এসব ভালো লাগে।  তারপর দিন যায়, সময় গড়ায়। মানুষটা অসুস্থ হয়, মন খারাপ করে, রেগে যায়, টাকা-পয়সার টান পড়ে, সংসারে ঝামেলা হয়। তখন এই বাহ্যিক ব্যাপারগুলো সব আড়ালে চলে যায়, ফিকে হয়ে আসে; সামনে এসে দাঁড়ায় মানুষের আসল রূপটা, তার ভেতরের ব্যক্তিত্বটা। আজকের দুনিয়ায় আমরা মানুষকে কতশত শর্ত দিয়ে মাপি। বাহ্যিক রূপ, পকেটের জো...

দুর্দিনের দাম্পত্য

Image
 ইদানীং ডিভোর্সটা যেন বাচ্চাদের খেলা হয়ে গেছে। জটিল সমীকরণ মেলাতে না পারলে কিংবা জীবনের ওপর একটু বাড়তি চাপ এলেই মনে হয়—থাক, এত এত ঝামেলার দরকার কী? আলাদা হয়ে যাই। নিজের মতো করে একটু আরামের জীবন কাটাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের মদিনা কিংবা মক্কার রোদে পোড়া পথগুলোতেও বিচ্ছেদ ছিল। সাহাবায়ে কেরামও ডিভোর্স দিয়েছেন, তাঁদের সম্মানিতা স্ত্রীগণও নিয়েছেন। কিন্তু সেই গল্পগুলোর আবহাওয়া ছিল একেবারে অন্যরকম। কেউ হয়তো রাসুল (সা.)-এর কাছে গিয়ে সোজাসুজি বলেছেন, "ইয়া রাসুলুল্লাহ, লোকটা মানুষ হিসেবে ভালো, কিন্তু ওর চেহারাটা আমার পছন্দ হয় না। একসাথে থাকতে পারছি না।" রাসুল (সা.) হেসেছেন, শরিয়তের বিধান মেনে বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কোনো জটিলতা নেই, কোনো নাটকীয়তা নেই। খুব সহজ আর ঝরঝরে একটা ব্যাপার। কিন্তু জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কাজে নিবেদিত থাকার কারণে যে জুলুম আসে, সে জুলুমের ভয়ে কি কখনও তাঁরা ডিভোর্স নিয়েছেন? চারপাশে প্রচণ্ড অত্যাচার, দ্বীনের পথে চলায় পদে পদে যন্ত্রণা, কাফেরদের রক্তচক্ষু— এইসব সয়ে টিকে থাকতে কষ্ট হচ্ছে বলে কি কোনো সাহাবিয়া স্ব...

||অচেনা অন্তর ||

Image
আমরা মানুষকে খুব সহজেই বিচার করে ফেলি। খুব সহজেই! কারো মুখ একটু ভার দেখলেই বলে দিই— ছেলেটা বা মেয়েটা অহংকারী। কারো সামান্য একটু নীরবতা দেখলেই ভেবে নিই— ওর ভাব বেশি। কাউকে একাকী থাকতে দেখলেই "অসামাজিক" বলে সিল মেরে দিই। কাউকে রাত জেগে থাকতে দেখলেই প্রশ্ন করি— কী এমন কাজ করছে, যার জন্য সারারাত ঘুম নেই? কেউ ভোরে বাড়ি ফিরলেই সন্দেহ করি— কোথায় ছিল সারারাত? কিন্তু আমরা একটা প্রশ্ন খুব কমই করি— "কেন?" জিজ্ঞেস করি না— সে কেন চুপ করে আছে?  কেন সে আগের মতো হাসে না?  কেন সে মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলে?  কেন রাত তার কাছে দিনের চেয়ে বেশি আপন?  কেন ভোরের স্নিগ্ধতায়ও তার চোখে ক্লান্তির কল্লোল দেখা যায়? আমরা, মানুষেরা, সাধারণত মানুষের বাহ্যিক কাজ দেখি। কিন্তু সেই কাজের কারণ দেখি না। আমরা মানুষের বাহ্যিক আচরণ দেখি। অথচ ভেতরের যুদ্ধটা দেখি না। আমরা মানুষের মুখ দেখি। হৃদয় দেখি না। আসলে এটা অযৌক্তিকও না। মানুষের বাহ্যিক দিক দেখেই তো মানুষ বিচার করবে, আর স্রষ্টা অন্তর দেখে, হৃদয় দেখে, নিয়ত দেখেই বিচার করবেন। এটাই স্বাভাবিক।  তবু্ও ব্যাপারগুলো নিয়ে একটু ভাবার জন্যই লিখছি, এই আরকি! যা...

এক নজরে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবনপরিক্রমা

Image
  আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী— উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওয়ায়েজ, লেখক, তাফসিরকারক, আলিমে দ্বীন ও রাজনীতিবিদ।    এমন ক্ষণজন্মা মহান মনীষী বাংলাদেশের জমিন খুবই কম জন্ম দিয়েছে। এখানে আমরা এই মহান মানুষটির জন্ম, শিক্ষাজীবন, পারিবারিক পরিচয়, ওয়াজ, রাজনীতি, কারাবরণ ও মৃত্যু পর্যন্ত পুরো জীবন পরিক্রমা একনজরে নিচে তুলে ধরব ইন শা আল্লাহ।  • জন্ম  ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ সালের ৭ রমজান পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর (সাবেক ইন্দুরকানী) উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদীও ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং ফুরফুরা পীর সাহেবের খলিফা। • তাঁর নাম :  ফুরফুরা শরীফের পীর হযরত মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী আল-কোরাইশী আল্লামা সাঈদীর জন্মের পর তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে আসেন। তিনিই মূলত তাঁর নাম “দেলাওয়ার” রাখেন। পিতার নাম সাঈদীর সাথে তখন থেকে থেকে দেলাওয়ার নামটি যুক্ত করে তিনি হয়ে ওঠেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কিন্তু তখনও তাঁর পিতা-মাতা কিংবা দুনিয়ার কেউই জানত না, এই ছেলেটিই একদিন জগদ্বিখ্যাত একজন আলিমে দ্বীন হবেন। হবেন ইসলামি আন্দোলনের কিংবদন্তি এক সেনাপতি।  • ব...

এক আলোকবাহী কবি

Image
  মক্কার উত্তপ্ত বাতাসে ধুলো উড়ছে। চারপাশে লোকজনের কোলাহল। কাবার পাশে একজন মানুষ নামাজ পড়ছেন। সেই মানুষটি— যাঁকে নিয়ে শহরজুড়ে অপবাদ, বিদ্বেষ, আর অজস্র মিথ্যাচার। যাঁকে কুরাইশরা বলছে—“জাদুকর”। দাউস গোত্রের কবি ও নেতা তোফায়েল ইবনে আমর আদ-দাওসি (রা.) তখন মক্কায় এসেছেন। তাঁর আগমনের খবরেই সরগরম কুরাইশদের আঙিনা। একজন তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন। চোখে উদ্বেগ, কণ্ঠে সতর্কতা— “তোফায়েল! সাবধানে থেকো। এখানে এক লোক আছে— তার কথা জাদুর মতো, কবিতার মতো। সে এমনভাবে কথা বলে, শুনলেই মানুষ নিজের বাপ-ভাই, স্ত্রী-সন্তান— সবকিছুই ভুলে যায়। তার কথা শুনবে না, এমনকি চোখে পড়লেও মুখ ফিরিয়ে নেবে।” তোফায়েল (রা.) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর নিঃশব্দে মাথা নাড়লেন। রাতের আঁধারে তিনি কানে তুলো গুঁজে নিলেন, যেন কোনোভাবেই সেই “জাদুকরের” কথা তাঁর কানে না পৌঁছায়। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের চেয়ে অনেক সূক্ষ্ম। সকালে তিনি কাবার পাশে এলেন। দূর থেকে দেখলেন, এক মানুষ নম্র ভঙ্গিতে সিজদায় লীন। মুখে কী যেন অদ্ভুত এক মায়াবী সুর। সেই সুরটি হলো কুরআনের সুর। তুলো গুঁজে রাখা কানের ভেতরও যেন কুরআনের সেই মোলায়েম ধ্বনি প...