Posts

নির্ভরতার নীড়

Image
মানুষ খুঁজতে গেলে পারফেক্ট মানুষ খুঁজবেন না। পারফেক্ট মানুষ বলে কিছু নেই।  যে দেখতে ভালো, তার মেজাজ খারাপ। যার মন ভালো, তার হয়তো কথা বলার ধরনটা খারাপ। কেউ খুব যত্নশীল, কিন্তু ভীষণ রাগী। কেউ আবার খুব শান্ত, কিন্তু তার ওপর ভরসা করা যায় না। মানুষ এমনই। তাই এমন একজন মানুষ খুঁজুন, যার কাছে গিয়ে আপনাকে অন্য একজন, ভিন্ন মানুষ সাজতে হয় না। সারাক্ষণ কী বলছি, কী করছি, কীভাবে তাকাচ্ছি— এসব নিয়ে হিসাব করতে হয় না।  মন খারাপ হলে চুপ করে থাকা যায়। ভুল করলে স্বীকার করা যায়। দুর্বল লাগলে দুর্বল হওয়া যায়। যার সামনে কাঁদতে গেলে লজ্জা লাগে না। সুন্দর মানুষ দেখে ভালো লাগতেই পারে। রূপ দেখে মুগ্ধতা আসতেই পারে। বিত্তবৈভব দেখে আকর্ষণ ফিল হতেই পারে।  প্রথম প্রথম সত্যিই এসব ভালো লাগে।  তারপর দিন যায়, সময় গড়ায়। মানুষটা অসুস্থ হয়, মন খারাপ করে, রেগে যায়, টাকা-পয়সার টান পড়ে, সংসারে ঝামেলা হয়। তখন এই বাহ্যিক ব্যাপারগুলো সব আড়ালে চলে যায়, ফিকে হয়ে আসে; সামনে এসে দাঁড়ায় মানুষের আসল রূপটা, তার ভেতরের ব্যক্তিত্বটা। আজকের দুনিয়ায় আমরা মানুষকে কতশত শর্ত দিয়ে মাপি। বাহ্যিক রূপ, পকেটের জো...

দুর্দিনের দাম্পত্য

Image
 ইদানীং ডিভোর্সটা যেন বাচ্চাদের খেলা হয়ে গেছে। জটিল সমীকরণ মেলাতে না পারলে কিংবা জীবনের ওপর একটু বাড়তি চাপ এলেই মনে হয়—থাক, এত এত ঝামেলার দরকার কী? আলাদা হয়ে যাই। নিজের মতো করে একটু আরামের জীবন কাটাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ের মদিনা কিংবা মক্কার রোদে পোড়া পথগুলোতেও বিচ্ছেদ ছিল। সাহাবায়ে কেরামও ডিভোর্স দিয়েছেন, তাঁদের সম্মানিতা স্ত্রীগণও নিয়েছেন। কিন্তু সেই গল্পগুলোর আবহাওয়া ছিল একেবারে অন্যরকম। কেউ হয়তো রাসুল (সা.)-এর কাছে গিয়ে সোজাসুজি বলেছেন, "ইয়া রাসুলুল্লাহ, লোকটা মানুষ হিসেবে ভালো, কিন্তু ওর চেহারাটা আমার পছন্দ হয় না। একসাথে থাকতে পারছি না।" রাসুল (সা.) হেসেছেন, শরিয়তের বিধান মেনে বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কোনো জটিলতা নেই, কোনো নাটকীয়তা নেই। খুব সহজ আর ঝরঝরে একটা ব্যাপার। কিন্তু জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর কাজে নিবেদিত থাকার কারণে যে জুলুম আসে, সে জুলুমের ভয়ে কি কখনও তাঁরা ডিভোর্স নিয়েছেন? চারপাশে প্রচণ্ড অত্যাচার, দ্বীনের পথে চলায় পদে পদে যন্ত্রণা, কাফেরদের রক্তচক্ষু— এইসব সয়ে টিকে থাকতে কষ্ট হচ্ছে বলে কি কোনো সাহাবিয়া স্ব...

||অচেনা অন্তর ||

Image
আমরা মানুষকে খুব সহজেই বিচার করে ফেলি। খুব সহজেই! কারো মুখ একটু ভার দেখলেই বলে দিই— ছেলেটা বা মেয়েটা অহংকারী। কারো সামান্য একটু নীরবতা দেখলেই ভেবে নিই— ওর ভাব বেশি। কাউকে একাকী থাকতে দেখলেই "অসামাজিক" বলে সিল মেরে দিই। কাউকে রাত জেগে থাকতে দেখলেই প্রশ্ন করি— কী এমন কাজ করছে, যার জন্য সারারাত ঘুম নেই? কেউ ভোরে বাড়ি ফিরলেই সন্দেহ করি— কোথায় ছিল সারারাত? কিন্তু আমরা একটা প্রশ্ন খুব কমই করি— "কেন?" জিজ্ঞেস করি না— সে কেন চুপ করে আছে?  কেন সে আগের মতো হাসে না?  কেন সে মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলে?  কেন রাত তার কাছে দিনের চেয়ে বেশি আপন?  কেন ভোরের স্নিগ্ধতায়ও তার চোখে ক্লান্তির কল্লোল দেখা যায়? আমরা, মানুষেরা, সাধারণত মানুষের বাহ্যিক কাজ দেখি। কিন্তু সেই কাজের কারণ দেখি না। আমরা মানুষের বাহ্যিক আচরণ দেখি। অথচ ভেতরের যুদ্ধটা দেখি না। আমরা মানুষের মুখ দেখি। হৃদয় দেখি না। আসলে এটা অযৌক্তিকও না। মানুষের বাহ্যিক দিক দেখেই তো মানুষ বিচার করবে, আর স্রষ্টা অন্তর দেখে, হৃদয় দেখে, নিয়ত দেখেই বিচার করবেন। এটাই স্বাভাবিক।  তবু্ও ব্যাপারগুলো নিয়ে একটু ভাবার জন্যই লিখছি, এই আরকি! যা...

এক নজরে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবনপরিক্রমা

Image
  আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী— উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওয়ায়েজ, লেখক, তাফসিরকারক, আলিমে দ্বীন ও রাজনীতিবিদ।    এমন ক্ষণজন্মা মহান মনীষী বাংলাদেশের জমিন খুবই কম জন্ম দিয়েছে। এখানে আমরা এই মহান মানুষটির জন্ম, শিক্ষাজীবন, পারিবারিক পরিচয়, ওয়াজ, রাজনীতি, কারাবরণ ও মৃত্যু পর্যন্ত পুরো জীবন পরিক্রমা একনজরে নিচে তুলে ধরব ইন শা আল্লাহ।  • জন্ম  ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ সালের ৭ রমজান পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর (সাবেক ইন্দুরকানী) উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদীও ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং ফুরফুরা পীর সাহেবের খলিফা। • তাঁর নাম :  ফুরফুরা শরীফের পীর হযরত মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী আল-কোরাইশী আল্লামা সাঈদীর জন্মের পর তাঁদের পৈতৃক বাড়িতে আসেন। তিনিই মূলত তাঁর নাম “দেলাওয়ার” রাখেন। পিতার নাম সাঈদীর সাথে তখন থেকে থেকে দেলাওয়ার নামটি যুক্ত করে তিনি হয়ে ওঠেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। কিন্তু তখনও তাঁর পিতা-মাতা কিংবা দুনিয়ার কেউই জানত না, এই ছেলেটিই একদিন জগদ্বিখ্যাত একজন আলিমে দ্বীন হবেন। হবেন ইসলামি আন্দোলনের কিংবদন্তি এক সেনাপতি।  • ব...

এক আলোকবাহী কবি

Image
  মক্কার উত্তপ্ত বাতাসে ধুলো উড়ছে। চারপাশে লোকজনের কোলাহল। কাবার পাশে একজন মানুষ নামাজ পড়ছেন। সেই মানুষটি— যাঁকে নিয়ে শহরজুড়ে অপবাদ, বিদ্বেষ, আর অজস্র মিথ্যাচার। যাঁকে কুরাইশরা বলছে—“জাদুকর”। দাউস গোত্রের কবি ও নেতা তোফায়েল ইবনে আমর আদ-দাওসি (রা.) তখন মক্কায় এসেছেন। তাঁর আগমনের খবরেই সরগরম কুরাইশদের আঙিনা। একজন তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন। চোখে উদ্বেগ, কণ্ঠে সতর্কতা— “তোফায়েল! সাবধানে থেকো। এখানে এক লোক আছে— তার কথা জাদুর মতো, কবিতার মতো। সে এমনভাবে কথা বলে, শুনলেই মানুষ নিজের বাপ-ভাই, স্ত্রী-সন্তান— সবকিছুই ভুলে যায়। তার কথা শুনবে না, এমনকি চোখে পড়লেও মুখ ফিরিয়ে নেবে।” তোফায়েল (রা.) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর নিঃশব্দে মাথা নাড়লেন। রাতের আঁধারে তিনি কানে তুলো গুঁজে নিলেন, যেন কোনোভাবেই সেই “জাদুকরের” কথা তাঁর কানে না পৌঁছায়। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের চেয়ে অনেক সূক্ষ্ম। সকালে তিনি কাবার পাশে এলেন। দূর থেকে দেখলেন, এক মানুষ নম্র ভঙ্গিতে সিজদায় লীন। মুখে কী যেন অদ্ভুত এক মায়াবী সুর। সেই সুরটি হলো কুরআনের সুর। তুলো গুঁজে রাখা কানের ভেতরও যেন কুরআনের সেই মোলায়েম ধ্বনি প...

“বিএনপির শত্রু-মিত্র”

Image
  বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে চেয়েছিলাম। সত্যি বলতে, বিএনপিকে আঘাত করতে কখনোই স্বস্তি লাগে না। কিন্তু সহ্যেরও একটা সীমা থাকে। যখন কোনো রাজনৈতিক দল তার আদর্শিক বন্ধুদের চিনতে ব্যর্থ হয়, আর সুযোগসন্ধানী ও অর্বাচীনদের হাতে নিজের বিবেক তুলে দেয়— তখন কথা বলাটা কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। গতকাল বিএনপির একটা প্রোগ্রামে আমাদের দেশ-এর সম্পাদক, ড. মাহমুদুর রহমান, আওয়ামী আমলে নির্যাতিত কয়েকজন সাংবাদিকের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। পাশাপাশি তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করলেন— নতুন করে বিএনপি-সাজা কিছু সাংবাদিক ও মিডিয়ার ব্যাপারে। এই সতর্কতায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গও তুলে আনলেন। যদিও তারেক রহমানের সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের তুলনাটা যথার্থ ছিল না। তবুও তিনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, সচেতন ব্যক্তি মাত্রই তা বুঝে ফেলার কথা। সম্ভবত তারেক রহমানও তা বুঝেছিলেন। কিন্তু এই সতর্কবার্তার জের ধরে বিএনপির কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী ও সমর্থকরা ড. মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তোপ দাগানো শুরু করলো এবং এই সাহসী ও সৎ মানুষটির চরিত্রহননের পথে হাঁটা শুরু করল। এটা যে শুধু দুঃখজন...

“আধুনিক মানুষের নতুন রব”

Image
  আধুনিক মানুষ আল্লাহর দাসত্ব থেকে ‘মুক্ত’ হয়েছে। এই মুক্তির পর তাকে বলা হয়েছে, “এখন তুমি স্বাধীন।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, সে আরেক সৃষ্টির কাছে বন্দি হয়ে পড়েছে। যারা মানুষকে সকল বন্ধন ছিঁড়ে ‘স্বাধীন’ হতে শেখায়, তারাই হয়ে ওঠেছে মানুষের নতুন রব। এই যে আল্লাহর দাসত্ব ছেড়ে দিয়ে মানুষ নতুন প্রভুর শৃঙ্খলে বাঁধা পড়েছে, সেই প্রভু কে? সে প্রভু হলো রাষ্ট্র। আজ রাষ্ট্রই মানুষের নতুন রব, নতুন বিধানদাতা। নাগরিকদের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টি এখন গৌণ, রাষ্ট্রের সন্তুষ্টিই মুখ্য। আজকের মানুষ রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া আল্লাহকে পর্যন্ত খুশি করতে পারে না— চাইলেও সে পথে পা বাড়াতে পারে না। কারণ, সে পথে রয়েছে মৃত্যু, জেল, নির্যাতন কিংবা নির্বাসন। আধুনিক যুগে রাষ্ট্র যেন হয়ে ওঠেছে এক ছায়া-ইলাহ— যার অনুমতি ছাড়া আল্লাহর দ্বীনও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সম্ভবত, এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড়ো ও ভয়াবহ শিরক। আর আমরা সবাই— ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়— এই শিরকে জড়িয়ে গেছি। তবে শুধু রাষ্ট্র নয়— আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা জাতিসংঘের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও হয়ে ওঠেছে মানুষের নতুন খোদা। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। ...