Posts

এক আলোকবাহী কবি

Image
  মক্কার উত্তপ্ত বাতাসে ধুলো উড়ছে। চারপাশে লোকজনের কোলাহল। কাবার পাশে একজন মানুষ নামাজ পড়ছেন। সেই মানুষটি— যাঁকে নিয়ে শহরজুড়ে অপবাদ, বিদ্বেষ, আর অজস্র মিথ্যাচার। যাঁকে কুরাইশরা বলছে—“জাদুকর”। দাউস গোত্রের কবি ও নেতা তোফায়েল ইবনে আমর আদ-দাওসি (রা.) তখন মক্কায় এসেছেন। তাঁর আগমনের খবরেই সরগরম কুরাইশদের আঙিনা। একজন তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন। চোখে উদ্বেগ, কণ্ঠে সতর্কতা— “তোফায়েল! সাবধানে থেকো। এখানে এক লোক আছে— তার কথা জাদুর মতো, কবিতার মতো। সে এমনভাবে কথা বলে, শুনলেই মানুষ নিজের বাপ-ভাই, স্ত্রী-সন্তান— সবকিছুই ভুলে যায়। তার কথা শুনবে না, এমনকি চোখে পড়লেও মুখ ফিরিয়ে নেবে।” তোফায়েল (রা.) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর নিঃশব্দে মাথা নাড়লেন। রাতের আঁধারে তিনি কানে তুলো গুঁজে নিলেন, যেন কোনোভাবেই সেই “জাদুকরের” কথা তাঁর কানে না পৌঁছায়। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের চেয়ে অনেক সূক্ষ্ম। সকালে তিনি কাবার পাশে এলেন। দূর থেকে দেখলেন, এক মানুষ নম্র ভঙ্গিতে সিজদায় লীন। মুখে কী যেন অদ্ভুত এক মায়াবী সুর। সেই সুরটি হলো কুরআনের সুর। তুলো গুঁজে রাখা কানের ভেতরও যেন কুরআনের সেই মোলায়েম ধ্বনি প...

“বিএনপির শত্রু-মিত্র”

Image
  বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে চেয়েছিলাম। সত্যি বলতে, বিএনপিকে আঘাত করতে কখনোই স্বস্তি লাগে না। কিন্তু সহ্যেরও একটা সীমা থাকে। যখন কোনো রাজনৈতিক দল তার আদর্শিক বন্ধুদের চিনতে ব্যর্থ হয়, আর সুযোগসন্ধানী ও অর্বাচীনদের হাতে নিজের বিবেক তুলে দেয়— তখন কথা বলাটা কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। গতকাল বিএনপির একটা প্রোগ্রামে আমাদের দেশ-এর সম্পাদক, ড. মাহমুদুর রহমান, আওয়ামী আমলে নির্যাতিত কয়েকজন সাংবাদিকের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। পাশাপাশি তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করলেন— নতুন করে বিএনপি-সাজা কিছু সাংবাদিক ও মিডিয়ার ব্যাপারে। এই সতর্কতায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গও তুলে আনলেন। যদিও তারেক রহমানের সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের তুলনাটা যথার্থ ছিল না। তবুও তিনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, সচেতন ব্যক্তি মাত্রই তা বুঝে ফেলার কথা। সম্ভবত তারেক রহমানও তা বুঝেছিলেন। কিন্তু এই সতর্কবার্তার জের ধরে বিএনপির কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী ও সমর্থকরা ড. মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তোপ দাগানো শুরু করলো এবং এই সাহসী ও সৎ মানুষটির চরিত্রহননের পথে হাঁটা শুরু করল। এটা যে শুধু দুঃখজন...

“আধুনিক মানুষের নতুন রব”

Image
  আধুনিক মানুষ আল্লাহর দাসত্ব থেকে ‘মুক্ত’ হয়েছে। এই মুক্তির পর তাকে বলা হয়েছে, “এখন তুমি স্বাধীন।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, সে আরেক সৃষ্টির কাছে বন্দি হয়ে পড়েছে। যারা মানুষকে সকল বন্ধন ছিঁড়ে ‘স্বাধীন’ হতে শেখায়, তারাই হয়ে ওঠেছে মানুষের নতুন রব। এই যে আল্লাহর দাসত্ব ছেড়ে দিয়ে মানুষ নতুন প্রভুর শৃঙ্খলে বাঁধা পড়েছে, সেই প্রভু কে? সে প্রভু হলো রাষ্ট্র। আজ রাষ্ট্রই মানুষের নতুন রব, নতুন বিধানদাতা। নাগরিকদের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টি এখন গৌণ, রাষ্ট্রের সন্তুষ্টিই মুখ্য। আজকের মানুষ রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া আল্লাহকে পর্যন্ত খুশি করতে পারে না— চাইলেও সে পথে পা বাড়াতে পারে না। কারণ, সে পথে রয়েছে মৃত্যু, জেল, নির্যাতন কিংবা নির্বাসন। আধুনিক যুগে রাষ্ট্র যেন হয়ে ওঠেছে এক ছায়া-ইলাহ— যার অনুমতি ছাড়া আল্লাহর দ্বীনও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সম্ভবত, এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড়ো ও ভয়াবহ শিরক। আর আমরা সবাই— ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়— এই শিরকে জড়িয়ে গেছি। তবে শুধু রাষ্ট্র নয়— আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা জাতিসংঘের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও হয়ে ওঠেছে মানুষের নতুন খোদা। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। ...

জিহাদ বনাম গণতন্ত্র: একপাক্ষিক ন্যারেটিভের ফাঁদে ইসলামপন্থীরা

Image
  ০১. বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য বা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য কত মানুষ, কতভাবেই না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা কি তা জানি না? অবশ্যই জানি। কারণ, এগুলো আমাদের সামনেই হয়েছে। তবুও আমরা এসব কারণে গণতন্ত্রকে বাদ দিতে বলি না। গণতন্ত্রকে উচ্ছেদ করতে বলি না। বরং, আরও পিউর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে বলি। এই ইউটোপিয়ান পিউর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বছরের পর বছর ধরে সংগ্রাম করি। মার খাই, জেইলে যাই। বন্দি হই। নির্যাতিত ও নিপীড়িত হই। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পেট্রোল বোমা দিয়ে, গাণ-পাউডার দিয়ে বাস-ট্রাক, মোটরসাইকেল, বাড়িঘর, দোকানপাট— কতো কিছুই তো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মানুষকে পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুন করা হয়েছে। তবুও আমরা এগুলোর জন্য গণতন্ত্রকে দোষারোপ করি না। এগুলো কারার কারণে কাউকে গণতান্ত্রিক সন্ত্রাস বলি না। মনে হয় যেন, গণতন্ত্রে কোনো সন্ত্রাস হতে পারে না। সন্ত্রাস শুধু ইসলামের পক্ষের কিছু লোকজনই হতে পারে। আপনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মারবেন-মরবেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। ওই অর্থে এটা কিন্তু খুব বড়ো ভুল বা বড়ো সমস্যা না। কিন্তু, আপনি দেখবেন, এখন ইসলামের জন্য যদি কিছু মানুষ ভুলভ্রান্তি করে, তখ...

ইবনে খালদুনের প্রাসঙ্গিকতা

Image
  আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খালদুন(১৩৩২-১৪০৬), ইসলামিক বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠতম মনীষীদের অন্যতম, যিনি তাঁর মহত্তম অবদান ‘মুকাদ্দিমার’ জন্যই সর্বাধিক বিদিত। অন্য যে কোনো মুসলিম চিন্তকের তুলনায় ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা বিষয়ে তিনি সমৃদ্ধ সাহিত্য ভান্ডারের অধিকারী। উত্তর আফ্রিকার তিনি যে অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন, সমাজসমূহের সুগভীর পর্যবেক্ষণ তাঁকে চালিত করে সার্বজনীন ইতিহাস এবং বিশ্বসভ্যতার একটি কৌতুহল-উদ্দীপক ধারণা নির্মাণের পথে। উৎকৃষ্ট বুদ্ধিবৃত্তির পাশাপাশি প্রধান প্রধান জ্ঞানের শাখাসমূহের অদম্য সমঝদার ইবনে খালদুন ছিলেন একইসাথে ধ্যানী ও কর্মী, চিন্তানায়ক ও কর্মবীর। অনেকে যথার্থই তাঁকে সমাজবিজ্ঞানের জনক হিসেবে অভিহিত করেন। ইতিহাসবেত্তাগণ পরাশক্তিসমূহের উত্থান পতন ব্যাখ্যায় তাঁর প্রজ্ঞার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সামাজিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিবিশেষের দৃষ্টিভঙ্গি গঠন ও রুপায়নে অর্থনৈতিক শক্তিসমূহের সক্ষমতা বিষয়ে তাঁর তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টির জন্য তারিফ করেন মার্ক্সবাদীরাও। সাম্রাজ্যের সাফল্য এবং ব্যর্থতা পর্যালোচনায় উসমানী রাষ্ট্রজ্ঞ এবং ইতিহাসবেত্তাগণ শতাব্দীর...

“ভাঙন থেকে পুনর্গঠন”

Image
কী সুন্দর করে সাজানো-গোছানো মনটা কখনো না কখনো ভেঙে যায়। কেউ না কেউ ভেঙে দেয়। আমরা চাই না এমনটা হোক। কিন্তু তবুও এমনটাই হয়।  প্রায়শই এমন অগণিত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। অথচ আমরা চাই না উত্তপ্ত উনুনে জ্বলে ওঠা অনলের মতো দাউদাউ করে আমাদের ভেতরটা জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়ে যাক। কিন্তু আমরা না চাইলেও তা হয়, আমাদের এই ছোট্ট মনটা ঠিকই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ভেঙে পড়েই। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, খানখান হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে থেঁতলে যায়। বুকের খাচায় দুঃখের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সেই দাবানল সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। বিষণ্ণতার কালো মেঘে ঢেকে যায় আমাদের আমাদের মন-আকাশ। তখন আর কিছুই ভালো লাগে না। জগত-সংসার, পরিবারপরিজন, খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, কাজকর্ম— কিছুই না। কিছুতেই মন বসে না। ভালো কথাও তেতো লাগে। পুরো দুনিয়াটাই অসহ্য মনে হয়। কখনও কখনও তো  এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আগ্রহটাই ক্ষয়ে যায়। ধৈর্যের দেয়ালটা ভেঙে চুরচুর হয়ে যায়। খসে খসে মাটিতে পড়ে একাকার-ম্যাসাকার হয়ে যায়। ঠিক তখনই নিজেকে হুট করে প্রশ্ন করি— এত অধৈর্য হয়ে লাভটা কী? সহ্যের সীমা ডিঙিয়ে অসহ্যের আঁকাবাঁকা পথে গিয়ে এই ক্ষুদ্র...

আগামীর যুদ্ধ হবে সুপেয় পানির যুদ্ধ

Image
  আগামীর যুদ্ধ হবে সুপেয় পানির যুদ্ধ - কথাটা কে জানি বলেছিল কয়েক যুগ আগে। আজকে ইরানের ওয়াটার ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা করে বিশ্বকে কি ঐদিকে নিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা? এখন ইরানও হুমকি দিয়েছে যে, "কাজটা আমরা শুরু করি নি"। মানে, এখন আমরাও করব। কোথায় করবে? নিশ্চয়ই মিডল ইস্টের এরকম ওয়াটার প্ল্যান্টগুলোতে। তারপর কি হবে? কোটি কোটি মানুষ সুপেয় পানির অভাবে কষ্ট পাবে। কত বড় ডিজাস্টার হবে এটা!!!!  রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ যদি ভূমির ওপরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুপেয় পানির ভান্ডার হয়, এই বেঙ্গল বেসিনও ভূমির নিচে বড় পানির ভান্ডার। এদেশের এই মহামূল্যবান সম্পদ কিসে অপচয় হয় জানেন? ঐ যে কৃষকের বাচ্চাগুলারে দর্জিগিরি শিখিয়ে আধুনিক নীলচাষ শুরু করেছে, সেখানেই ওয়াশিংয়ে আমাদের পানিগুলোকে নষ্ট করা হয়।  এদিকে এই গার্মেন্টসের সামান্য জিএসপি সুবিধার বিনিময়ে পুরো দেশটা বেচে দিয়েছে ইউনুস। এবং ইউনুসকে সাপোর্ট করেছে বিএনপি ও জামাত। খলিলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ কেউ করেছে? তারমানে সে ঠিকি বলেছে। বাংলার ইতিহাসে একসময় ছিল নীলচাষ। জমির মালিকানা কৃষকের, কিন্তু ফসলের মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি। কৃষক নিজের জমিতে নিজে...