Posts

“ভাঙন থেকে পুনর্গঠন”

Image
কী সুন্দর করে সাজানো-গোছানো মনটা কখনো না কখনো ভেঙে যায়। কেউ না কেউ ভেঙে দেয়। আমরা চাই না এমনটা হোক। কিন্তু তবুও এমনটাই হয়।  প্রায়শই এমন অগণিত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। অথচ আমরা চাই না উত্তপ্ত উনুনে জ্বলে ওঠা অনলের মতো দাউদাউ করে আমাদের ভেতরটা জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়ে যাক। কিন্তু আমরা না চাইলেও তা হয়, আমাদের এই ছোট্ট মনটা ঠিকই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ভেঙে পড়েই। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, খানখান হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে থেঁতলে যায়। বুকের খাচায় দুঃখের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সেই দাবানল সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। বিষণ্ণতার কালো মেঘে ঢেকে যায় আমাদের আমাদের মন-আকাশ। তখন আর কিছুই ভালো লাগে না। জগত-সংসার, পরিবারপরিজন, খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, কাজকর্ম— কিছুই না। কিছুতেই মন বসে না। ভালো কথাও তেতো লাগে। পুরো দুনিয়াটাই অসহ্য মনে হয়। কখনও কখনও তো  এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আগ্রহটাই ক্ষয়ে যায়। ধৈর্যের দেয়ালটা ভেঙে চুরচুর হয়ে যায়। খসে খসে মাটিতে পড়ে একাকার-ম্যাসাকার হয়ে যায়। ঠিক তখনই নিজেকে হুট করে প্রশ্ন করি— এত অধৈর্য হয়ে লাভটা কী? সহ্যের সীমা ডিঙিয়ে অসহ্যের আঁকাবাঁকা পথে গিয়ে এই ক্ষুদ্র...

আগামীর যুদ্ধ হবে সুপেয় পানির যুদ্ধ

Image
  আগামীর যুদ্ধ হবে সুপেয় পানির যুদ্ধ - কথাটা কে জানি বলেছিল কয়েক যুগ আগে। আজকে ইরানের ওয়াটার ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা করে বিশ্বকে কি ঐদিকে নিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা? এখন ইরানও হুমকি দিয়েছে যে, "কাজটা আমরা শুরু করি নি"। মানে, এখন আমরাও করব। কোথায় করবে? নিশ্চয়ই মিডল ইস্টের এরকম ওয়াটার প্ল্যান্টগুলোতে। তারপর কি হবে? কোটি কোটি মানুষ সুপেয় পানির অভাবে কষ্ট পাবে। কত বড় ডিজাস্টার হবে এটা!!!!  রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ যদি ভূমির ওপরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুপেয় পানির ভান্ডার হয়, এই বেঙ্গল বেসিনও ভূমির নিচে বড় পানির ভান্ডার। এদেশের এই মহামূল্যবান সম্পদ কিসে অপচয় হয় জানেন? ঐ যে কৃষকের বাচ্চাগুলারে দর্জিগিরি শিখিয়ে আধুনিক নীলচাষ শুরু করেছে, সেখানেই ওয়াশিংয়ে আমাদের পানিগুলোকে নষ্ট করা হয়।  এদিকে এই গার্মেন্টসের সামান্য জিএসপি সুবিধার বিনিময়ে পুরো দেশটা বেচে দিয়েছে ইউনুস। এবং ইউনুসকে সাপোর্ট করেছে বিএনপি ও জামাত। খলিলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ কেউ করেছে? তারমানে সে ঠিকি বলেছে। বাংলার ইতিহাসে একসময় ছিল নীলচাষ। জমির মালিকানা কৃষকের, কিন্তু ফসলের মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি। কৃষক নিজের জমিতে নিজে...

“গণতন্ত্রের প্রতি অন্ধ প্রতিশ্রুতি: ইসলামপন্থার জন্য সতর্কবার্তা”

Image
  ইসলামপন্থীরা গণতন্ত্রের প্রতি যতই কমিটেড থাকুক না কেন, বাস্তবতা হলো— গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলামি রাজনৈতিক মতাদর্শকে কখনোই মেনে নেবে না। তাই বিকল্প ভাবতে হবে। শুধু ভাবতে হবে, এমন নয়। বরং বিকল্প নিয়ে ভাবা আজ অপরিহার্য। কিন্তু বিকল্প মানেই সশস্ত্র সংগ্রাম নয়, কিংবা এর মানে এই নয় যে এখনই জিহাদ শুরু করতে হবে। বরং প্রয়োজন এমন একটি কাঠামোবদ্ধ শ্রেণি তৈরি করা, যারা প্রচলিত সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকে কাজ করবে। তাদের দায়িত্ব হবে— • আরবান এডুকেটেড বিত্তশালী শ্রেণিকে জাহিলিয়াতের আবরণ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করবে।  • এপলিটিক্যাল মেধাবী স্টুডেন্টদেরকে একনিষ্ঠভাবে ইসলামি জীবনব্যবস্থার অনুগত করা এবং তাদেরকে পরিপূর্ণভাবে তাগুতের কাফির হিসেবে গড়ে তোলা।  তাহলে বিকল্প মাধ্যম বলতে কী বোঝায়? — বিকল্প মাধ্যম মানেই সশস্ত্র যুদ্ধ না। বরং — নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে নতুনভাবে সংগঠিত করা, এবং প্রচলিত কাঠামোর বাইরে একটি স্বাধীন সাংগঠনিক শক্তি দাঁড় করানো। এমন শক্তি, যা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আবদ্ধ না থেকে ইসলামকে জাহিলিয়াত থেকে ছেঁকে আলাদা করার মতো একটি দৃঢ়-বুদ্ধিবৃত্তিক পাটাতন ত...

মোল্লা ওমরের রহ. মায়ের ইন্তেকাল

Image
  তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমর রহমতুল্লাহি আলাইহির সম্মানিত মা দীর্ঘদিন জীবিত ছিলেন—এই তথ্যটি আজ তাঁর ইন্তেকালের সংবাদে এসে জানতে পারলাম। এক মায়ের বিদায় মানে শুধু পারিবারিক শোক নয়; ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত একজন নীরব সাক্ষীর প্রস্থানও বটে। বহু ঘটনা শব্দহীনভাবে যাঁর চোখের সামনে ঘটেছে, যিনি জন্ম দিয়েছিলেন আস্ত এক কিংবদন্তিকে—আজ সেই মহীয়সী ব্যক্তি চিরতরে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। মোল্লা ওমর রহমতুল্লাহি আলাইহি এই একবিংশ শতাব্দীর জিহাদ, ইকামাতে দ্বীন ও আজাদী আন্দোলনের অন্যতম আইকন। একজন নিতান্ত সাধারণ মাদরাসা-শিক্ষার্থী থেকে তিনি নারীর ইজ্জত রক্ষার লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন একটি সংগঠন। আর সেখান থেকেই তিনি বলতে গেলে সকল জালিম ও কাফিরদের কাছে ত্রাসে পরিণত হন। নারীর মর্যাদা রক্ষায় এক সময়ে গড়ে তোলা এই আন্দোলনের সূচনা ছিল অত্যন্ত সীমিত পরিসরে— জাতীয় তো বটেই, এমনকি নিজেদের অঞ্চলেও প্রায় অনুচ্চারিত এক নাম। সময়ের স্রোতে সেই উদ্যোগ ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ভেতর দিয়ে রূপান্তরিত হয়ে আঞ্চলিক গণ্ডি অতিক্রম করে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে যায়। মূলত তালেবান আন্দোলন ছিল সামাজিক অপরাধ ন...

বেগম রোকেয়াপূর্ব ভারতে নারী শিক্ষা

Image
  কথিত নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে ব্রিটিশ বাংলায়। তিনি নারী শিক্ষা নিয়ে বেশকিছু কাজ করেছেন এটা সত্য কিন্তু সমস্যা হলো জনমানসে একটা বয়ান ছড়ানো হয়েছে যে বেগম রোকেয়ার আগে কেউই মুসলিম নারীদের শিক্ষার জন্য উদ্যোগ নেয়নি, তিনি না থাকলে মুসলিম নারীরা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকতো, তাদেরকে কেউ উদ্ধার করার ছিলোনা তিনিই এসে নাকি উদ্ধার করেন। নারীশিক্ষার মশাল জ্বালান। মোটাদাগে তিনটে বয়ান পাওয়া যায়— ১. ধর্মান্ধতার কারণে মুসলমানরা তাদের নারীদের পড়াশোনা করতে দেয়নি। ২. মুসলিমরা কেউ এগিয়ে আসেনি বরং নারীশিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।  ৩.বেগম রোকেয়া এসে সকলকে উদ্ধার করেছে তাঁর আগে কেউই এবিষয়ে ভাবেননি। ১| ধর্মান্ধতার কারণে মুসলমানরা তাদের নারীদের পড়াশোনা করতে দেয়নি:  ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ ̄ এটা চূড়ান্ত একটা অসত্য কথা। ভারতবর্ষে নাহয় রোকেয়া এসেছেন তাই মুসলিম নারীরা শিক্ষিত হতে পেরেছে বলে ধরে নিলাম কিন্তু আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে আজ আমরা দেখতে পাই, ইসলামি বা মুসলিম বহুল রাষ্ট্রগুলোর নারী শিক্ষার হার ৯০% থেকে ১০০%-এর মধ্যে। সেখানে তো কোন রোকেয়া আসেননি। তাহলে কীভাবে এটা হলো! কারণ ...

সভ্যতা ও নারী

Image
  একটি সমাজকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করতে হলে প্রয়োজন মেটিকুলাসলি প্ল্যানড সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে মানুষের চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধকে সুপরিকল্পিতভাবে নতুন ছাঁচে ঢেলে সাজাবার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই প্রচেষ্টার সবচেয়ে বড়ো প্রতিবন্ধক যা, তা হলো পরিবার, আর পরিবারের প্রাণকেন্দ্র হলো নারী। উপনিবেশবাদীরা এটি নিখুঁতভাবে বুঝেছিল। তাই তারা নারীকে তাদের সমাজ-রূপান্তর প্রজেক্টের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এজন্য ‘ ‘নারী অধিকার’’ ,  ‘‘নারী স্বাধীনতা’’  কিংবা ‘ ‘নিজের পায়ে দাঁড়ানো’’  ‘‘সফল কিংবা সাহসী নারী’’,  ইত্যাদির মতো কিছু ন্যারেটিভ, কিছু মুখরোচক ও ঝলমলে স্লোগানকে সামনে নিয়ে আসে। এই স্লোগানগুলোকে তারা সামনে নিয়ে এলেও বাস্তবে এগুলো হলো মরীচিকা; ভেতরে লুকানো আছে পরিবারকে দুর্বল করার সাবটল স্ট্র্যাটেজি। মূলত পরিবারই সমাজের মৌলিক ভিত্তি। এটি শুধু সামাজিক প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং মানুষের চরিত্র ও মূল্যবোধ গঠনের প্রথম পাঠশালা। সভ্যতার প্রধান এবং প্রথম বুনিয়াদ। পরিবারে একজন মায়ের মাধ্যমে সন্তানের অন্তরে প্রবেশ করে বিশ্বাস, মূল্যবোধ, নী...

নারী কার্ডের নাটক ও সমাজে জেন্ডার ভিক্টিমহুডের রাজনীতি

Image
আমাদের সমাজে এক অদ্ভুত কৌশল বহুদিন ধরে চালু আছে— নাম তার নারী কার্ড। কোনো নারীর বিরুদ্ধে সামান্য সমালোচনা কিংবা প্রশ্ন তুললেই লাফিয়ে ওঠেই বলে দেওয়া হয়— নারীকে হেনস্তা করা হচ্ছে, নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। মানে নারীর ক্ষেত্রে যেকোনো সমালোচনাই সরাসরি নারী হেনস্তা বা নারী বিদ্বেষে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অথচ একই সমালোচনা কি পুরুষের ক্ষেত্রে এত দ্রুত হেনস্তার তকমা পায়? অদ্ভুত বিষয় হলো— “হেন করা”, “তেন করা”, কিংবা “হেনস্তা করা”— এসব যেন কেবল নারীর ওপরই প্রয়োগযোগ্য শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সমাজের প্রতিটি স্তরে— যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রাজনীতি, অফিস থেকে আদালত— সর্বত্র সবচেয়ে বেশি হেনস্তা ও দুঃসহ পরিস্থিতির শিকার হয় কেবল পুরুষেরাই। দুনিয়া ঘুরে দেখা লাগবে না, বাংলাদেশের ইতিহাসও লাগবে না, আপনার আশেপাশেই এর অজস্র প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। খেয়াল করে দেখুন: ক্রসফায়ার— পুরুষ। ফাঁসি— পুরুষ। বন্দুকযুদ্ধের নামে খুন— পুরুষ। সন্ত্রাস দমনের নামে হত্যা— পুরুষ। রাজপথে লাশ হয়ে পড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক সংগ্রামী— পুরুষ। এত কিছুর পরেও কিন্তু কেউ বলে না, “পুরুষ হেনস্তা হচ্ছে”। অথচ কোনো নারীর দিকে সামান্য বিদ্রূপের আঙুল ওঠল...