“আধুনিক মানুষের নতুন রব”

 



আধুনিক মানুষ আল্লাহর দাসত্ব থেকে ‘মুক্ত’ হয়েছে। এই মুক্তির পর তাকে বলা হয়েছে, “এখন তুমি স্বাধীন।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, সে আরেক সৃষ্টির কাছে বন্দি হয়ে পড়েছে। যারা মানুষকে সকল বন্ধন ছিঁড়ে ‘স্বাধীন’ হতে শেখায়, তারাই হয়ে ওঠেছে মানুষের নতুন রব।


এই যে আল্লাহর দাসত্ব ছেড়ে দিয়ে মানুষ নতুন প্রভুর শৃঙ্খলে বাঁধা পড়েছে, সেই প্রভু কে? সে প্রভু হলো রাষ্ট্র। আজ রাষ্ট্রই মানুষের নতুন রব, নতুন বিধানদাতা।

নাগরিকদের কাছে আল্লাহর সন্তুষ্টি এখন গৌণ, রাষ্ট্রের সন্তুষ্টিই মুখ্য।

আজকের মানুষ রাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া আল্লাহকে পর্যন্ত খুশি করতে পারে না— চাইলেও সে পথে পা বাড়াতে পারে না।

কারণ, সে পথে রয়েছে মৃত্যু, জেল, নির্যাতন কিংবা নির্বাসন।

আধুনিক যুগে রাষ্ট্র যেন হয়ে ওঠেছে এক ছায়া-ইলাহ— যার অনুমতি ছাড়া আল্লাহর দ্বীনও নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

সম্ভবত, এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড়ো ও ভয়াবহ শিরক। আর আমরা সবাই— ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়— এই শিরকে জড়িয়ে গেছি।

তবে শুধু রাষ্ট্র নয়— আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা জাতিসংঘের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও হয়ে ওঠেছে মানুষের নতুন খোদা। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। তাদের খুশি না রেখে কোনো আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না।

তাদের রেজামন্দি হাসিল না করে কেউ ক্ষমতার মসনদে না আসতে পারে, আর না থাকতে পারে।

মুসলিমদের জন্য এ বাস্তবতা আরও নির্মম। যদি কোনো মুসলিম ভূখণ্ডের শাসক ঘোষণা দেয়— “আমরা আল্লাহর শরিয়াহ অনুযায়ী চলতে চাই,” তখনই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক অবরোধ, কিংবা ‘মানবাধিকারের লঙ্ঘন’-এর অজুহাতে তাকে নিষ্পেষণ করা হয়।

তাদের আচরণ যেন এক স্পষ্ট হুমকি উচ্চারণ করে— “আমাদের বিধান অমান্য করে যদি তোমরা অন্যকোনো ইলাহের বিধান কায়েম করতে চাও, তবে জেনে রাখো— এই পৃথিবীতে তোমাদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া হবে না।”

আমরা কুরআন-হাদিসে ফিরআউনের হুমকি শুনেছি। আজও সেই হুমকি ফিরে এসেছে— নতুন ভাষায়, নতুন পোশাকে, কিন্তু একই নিষ্ঠুরতায়।

আমাদের সময়ের ফিরআউন হচ্ছে— রাষ্ট্র, জাতিসংঘ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের বৈশ্বিক দমনযন্ত্র।

যারা আল্লাহর প্রতি আন্তরিক আনুগত্য প্রকাশ করে, তারা এই ফিরআউনদের হাতে খুন হয়, বন্দি হয়, নির্বাসিত হয়, কিংবা চিহ্নিত হয়— ‘মানবজাতির শত্রু’ হিসেবে।

নারী হচ্ছে তাদের আরেক অস্ত্র। মুসলিমদের নিকট তাদের নারী হলো আত্মমর্যাদার প্রতীক। আর, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বশক্তির কাছে নারী হলো বিরোধী পক্ষকে দমনের এক শক্তিশালী অস্ত্র।

এই অস্ত্র ব্যবহার করে আবার পুরো মুসলিম উম্মাহকে বানানো হয় নারী বিদ্বেষী। অন্যদিকে, মুসলিম নারীদেরকে বানানো হয়— পরাধীনতার প্রতীক। তাদেরকে বানানো হয় পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত ও নিষ্পেষিত ভয়াবহ বন্দিনী— যারা মোল্লাতন্ত্র ও পুরুষতন্ত্রের প্রভাবে নিজেদের জন্য পরাধীন জীবনকেই বেছে নিয়ে ধুকে ধুকে মরছে।

তাদের বানানো ন্যারেটিভ অনুযায়ী নারী অধিকার না করলে, তাদের চশমায় নারী মুক্তিতে বিশ্বাসী না হলে, মুসলিম পুরুষরা তো নারী বিদ্বেষী বটেই, নারীরাও হয়ে ওঠে নারী বিদ্বেষী!

এই বিদ্বেষের শাস্তি হিসেবে তাদেরকে খুন, জখম, নির্বাসন থেকে শুরু করে (মুসলিম নারীদের) ধর্ষণ করা পর্যন্ত বৈধ হয়ে যায়।



রেদওয়ান রাওয়াহা
২৩ মে,২০২৫

Comments

Popular posts from this blog

পাকিস্তানিরা কি সত্যিই আমাদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চেয়েছিলো?

‘বিয়ে ও ডিমান্ড’

পলাশীর যুদ্ধ: মুসলিম সালতানাতের পতন সাম্রাজ্যবাদের উত্থান ও নিয়ন্ত্রণহীন ইতিহাস