Posts

Showing posts from March, 2026

“ভাঙন থেকে পুনর্গঠন”

Image
কী সুন্দর করে সাজানো-গোছানো মনটা কখনো না কখনো ভেঙে যায়। কেউ না কেউ ভেঙে দেয়। আমরা চাই না এমনটা হোক। কিন্তু তবুও এমনটাই হয়।  প্রায়শই এমন অগণিত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। অথচ আমরা চাই না উত্তপ্ত উনুনে জ্বলে ওঠা অনলের মতো দাউদাউ করে আমাদের ভেতরটা জ্বলেপুড়ে অঙ্গার হয়ে যাক। কিন্তু আমরা না চাইলেও তা হয়, আমাদের এই ছোট্ট মনটা ঠিকই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ভেঙে পড়েই। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, খানখান হয়ে দুমড়ে-মুচড়ে থেঁতলে যায়। বুকের খাচায় দুঃখের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। সেই দাবানল সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। বিষণ্ণতার কালো মেঘে ঢেকে যায় আমাদের আমাদের মন-আকাশ। তখন আর কিছুই ভালো লাগে না। জগত-সংসার, পরিবারপরিজন, খাওয়া-দাওয়া, পড়াশোনা, কাজকর্ম— কিছুই না। কিছুতেই মন বসে না। ভালো কথাও তেতো লাগে। পুরো দুনিয়াটাই অসহ্য মনে হয়। কখনও কখনও তো  এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আগ্রহটাই ক্ষয়ে যায়। ধৈর্যের দেয়ালটা ভেঙে চুরচুর হয়ে যায়। খসে খসে মাটিতে পড়ে একাকার-ম্যাসাকার হয়ে যায়। ঠিক তখনই নিজেকে হুট করে প্রশ্ন করি— এত অধৈর্য হয়ে লাভটা কী? সহ্যের সীমা ডিঙিয়ে অসহ্যের আঁকাবাঁকা পথে গিয়ে এই ক্ষুদ্র...

আগামীর যুদ্ধ হবে সুপেয় পানির যুদ্ধ

Image
  আগামীর যুদ্ধ হবে সুপেয় পানির যুদ্ধ - কথাটা কে জানি বলেছিল কয়েক যুগ আগে। আজকে ইরানের ওয়াটার ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা করে বিশ্বকে কি ঐদিকে নিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা? এখন ইরানও হুমকি দিয়েছে যে, "কাজটা আমরা শুরু করি নি"। মানে, এখন আমরাও করব। কোথায় করবে? নিশ্চয়ই মিডল ইস্টের এরকম ওয়াটার প্ল্যান্টগুলোতে। তারপর কি হবে? কোটি কোটি মানুষ সুপেয় পানির অভাবে কষ্ট পাবে। কত বড় ডিজাস্টার হবে এটা!!!!  রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ যদি ভূমির ওপরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুপেয় পানির ভান্ডার হয়, এই বেঙ্গল বেসিনও ভূমির নিচে বড় পানির ভান্ডার। এদেশের এই মহামূল্যবান সম্পদ কিসে অপচয় হয় জানেন? ঐ যে কৃষকের বাচ্চাগুলারে দর্জিগিরি শিখিয়ে আধুনিক নীলচাষ শুরু করেছে, সেখানেই ওয়াশিংয়ে আমাদের পানিগুলোকে নষ্ট করা হয়।  এদিকে এই গার্মেন্টসের সামান্য জিএসপি সুবিধার বিনিময়ে পুরো দেশটা বেচে দিয়েছে ইউনুস। এবং ইউনুসকে সাপোর্ট করেছে বিএনপি ও জামাত। খলিলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ কেউ করেছে? তারমানে সে ঠিকি বলেছে। বাংলার ইতিহাসে একসময় ছিল নীলচাষ। জমির মালিকানা কৃষকের, কিন্তু ফসলের মালিক ছিল ব্রিটিশ কোম্পানি। কৃষক নিজের জমিতে নিজে...

“গণতন্ত্রের প্রতি অন্ধ প্রতিশ্রুতি: ইসলামপন্থার জন্য সতর্কবার্তা”

Image
  ইসলামপন্থীরা গণতন্ত্রের প্রতি যতই কমিটেড থাকুক না কেন, বাস্তবতা হলো— গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলামি রাজনৈতিক মতাদর্শকে কখনোই মেনে নেবে না। তাই বিকল্প ভাবতে হবে। শুধু ভাবতে হবে, এমন নয়। বরং বিকল্প নিয়ে ভাবা আজ অপরিহার্য। কিন্তু বিকল্প মানেই সশস্ত্র সংগ্রাম নয়, কিংবা এর মানে এই নয় যে এখনই জিহাদ শুরু করতে হবে। বরং প্রয়োজন এমন একটি কাঠামোবদ্ধ শ্রেণি তৈরি করা, যারা প্রচলিত সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকে কাজ করবে। তাদের দায়িত্ব হবে— • আরবান এডুকেটেড বিত্তশালী শ্রেণিকে জাহিলিয়াতের আবরণ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করবে।  • এপলিটিক্যাল মেধাবী স্টুডেন্টদেরকে একনিষ্ঠভাবে ইসলামি জীবনব্যবস্থার অনুগত করা এবং তাদেরকে পরিপূর্ণভাবে তাগুতের কাফির হিসেবে গড়ে তোলা।  তাহলে বিকল্প মাধ্যম বলতে কী বোঝায়? — বিকল্প মাধ্যম মানেই সশস্ত্র যুদ্ধ না। বরং — নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে নতুনভাবে সংগঠিত করা, এবং প্রচলিত কাঠামোর বাইরে একটি স্বাধীন সাংগঠনিক শক্তি দাঁড় করানো। এমন শক্তি, যা প্রচলিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আবদ্ধ না থেকে ইসলামকে জাহিলিয়াত থেকে ছেঁকে আলাদা করার মতো একটি দৃঢ়-বুদ্ধিবৃত্তিক পাটাতন ত...