Posts

পাশ্চাত্য সমাজ বাস্তবতা ও ইসলাম

Image
  ইতিহাস কেবল ধারাবিবরণী নয়। ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঘটনার গভীরতা ও পারিপার্শ্বিকতা চিন্তা করা চাই। ইতিহাসে লুকায়িত আছে সুন্নাতুল্লাহ বা ‘বান্দাদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত রীতি।’ সেটা বের করা গেলেই ইতিহাসের অর্থ বেরিয়ে আসে। মনের দরজা জানালা খুলে নিয়ে পড়তে হবে। দুনিয়ার কোনোকিছুই সরল রেখায় চলে না। একেকটা জিনিসের পেছনে বহু ফ্যাক্টর কাজ করে। এরপরও আমরা সবকিছুকেই কমন ফর্মুলায় ফেলি। সেই ফর্মুলাটা ফলো করি বা এভোয়েড করি। এটাই আল্লাহর রীতি ধরে নিই। আর দুআ করি, যাতে নেপথ্যে ক্রিয়াশীল তাঁর যত রীতি আছে সবগুলোর মাঝে ফাইন টিউনিং করে আল্লাহ যেন আমার উদ্দেশ্যটা পুরো করে দেন। মোটাদাগে একটা সরলীকৃত ফরমেট আমরা বের করতে চাই নিজেদের অনুসরণের জন্য। এবারও আমরা সেটাই করব। মানবমন ও সমাজের একদম সাধারণ আদিম সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে কিছু কথা বলব। মানুষ তার পরিবেশ দ্বারা ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়। ভীষণভাবে। এটা কারো সত্যায়নের দরকার নেই। আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাই এজন্য যথেষ্ট। এমনকি বাকি সব ফ্যাক্টর অপরিবর্তিত থাকলে (সেটেরিস পেরিবাস) কেবল পরিবেশ একজন লোককে ১৮০ ডিগ্রি বদলে দিতে পারে। ইবনু খালদুন বলছেন, প্রথম প্রজন্মের মাঝে ধর্মবো...

আল মাহমুদের গদ্য ও সাংবাদিকতা

Image
এক. কোলাহলপূর্ণ ও গ্রামীণ সংস্কৃৃতির সম্মৃৃদ্ধ জনপদ থেকে উঠে এসে বাংলা কাব্য জগতের শীর্ষে আরোহন করেছিলেন কবি আল মাহমুদ। বৈচিত্রপূর্ণ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শৈশব কৈশোর যৌবন পেরিয়ে পরিণত বয়সে উন্নীত এই কবির জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল সৃজনশীল কর্মযজ্ঞে ভরপুর। পঞ্চাশের দশকে বাংলা কবিতার ভূবনের আল মাহমুদের যাত্রার বিষয়টি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। আর যেভাবে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’, দ্বিতীয় কাব্য ‘কালের কলস’ এবং আলোচিত কাব্যসৃষ্টি ‘সোনালী কাবিন’ আর কবির মতে শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘মায়াবি পর্দা দোলে উঠো’ কাব্যসাহিত্য রসিকদের মধ্যে আলোড়নের ঢেউ তুলেছিল, তেমনিভাবে প্রথম গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত বা গন্ধ বণিক বাংলা কথাসাহিত্যে আল মাহমুদের নতুন এক অভিযাত্রাকে অবারিত করে দিয়েছিল। বাংলা কথাসাহিত্যে আল মাহমুদের এই অবস্থানবৃক্ষে গভীরতর শেকড় বিস্তৃত করেছে, ‘উপমহাদেশ’, ‘কাবিলের বোন’, ‘ডাহুকি’ আর আত্ম জৈবনিক উপন্যাস ‘যে ভাবে বেড়ে উঠি’, ‘বিচুর্ণ আয়নায় কবির মুখ’ বা ‘যে পারো ভুলিয়ে দাও’ এর মতো অসাধারণ সৃষ্টি। দুই. ষাটের দশকে কবি আল মাহমুদ কার্যকর সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। ...

“ জাহান্নামের গরম বনাম দুনিয়ার গরম”

Image
  কী এক আশ্চর্য গরম! কী তীব্র দাবদাহ!! মনে হয় জীবনটা আজকে আর এখনই শেষ হয়ে যাবে। রূহটা মনে হয় গরমের তীব্রতায় আমার দেহ থেকে উড়াল দিতে পারলেই বাঁচে। সারাদিন দেহ থেকে দরদর করে ঘামের বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই। এই তীব্র গরমে না করা যায় ঠিকমত পড়াশোনা, না পরা যায় বসে বসে কোনো কাজ করা, না যাওয়া যায় একটু শান্তিতে ঘুম!  আসমান থেকে মনে হয় রোদ না, আগুনের ফুলকি ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। বাহিরে হাটতে গেলে মনে হয় শরীরের চামড়াগুলো জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে এই তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে পারি? কীভাবে পেতে পারি এই অসহনীয় জ্বালা থেকে মুক্তি? একবার মনে হয়েছে, মরলেই বুঝি মুক্তি! কিন্তু নাহ, মরলেই মুক্তি নেই। যদি ঈমান নিয়ে মরতে না পারি, তাহলে আখিরাতে আছে এরচেয়েও ভয়াবহ যন্ত্রণা। এর চাইতেও উত্তপ্ত উনুন। পবিত্র কুরআন আমাদেরকে জানাচ্ছে- لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ  অর্থাৎ,  ওটা (জা হা ন্না মের আ গু ন) দেহের চামড়া দগ্ধ করে দেবে। [ সূরা : মুদ্দাসসির -২৯] সূরা মা'আরিজে বলা হয়েছে, نَزَّاعَةً لِّلشَّوَىٰ অর্থাৎ, যা দেহ হতে চামড়া খসিয়ে দেবে। ( সূরা :মাআরিজ - ১৬) সূরা তাওবায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াত...

ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের অপপ্রয়োগ

Image
০১. ইদানীং খুব করে শুনবেন ক্রিটিকাল থিংকিং, যুগের সাথে তাল মেলানো, কুরআনের এসেন্স, যুগোপযোগী হওয়া ইত্যাদি শব্দসমূহ। এই ক্রিটিকাল থিংকিং ও যুগের সাথে তাল মেলানো কিংবা যুগোপযোগী হওয়ার বিষয় নিয়ে একশ্রেণির মুসলিম ভাইবোনেরা, আলিম পদধারী কিছু ব্যক্তিরা, এমনকী ইসলামি আন্দোলনের কর্মী পরিচয়দানকারী কিছু মানুষেরাও আমাদেরকে নানাবিধ কথাবার্তা শোনায়। বিশেষত পশ্চিমা এবং পশ্চিম প্রভাবিত শায়খদের থেকেই বেশি শুনি উপরিউক্ত শব্দ ও পরিভাষাগুলো। তাঁরা যুগোপযোগী হওয়া বলতে কিংবা ক্রিটিকাল থিংকিং বলতে আমাদেরকে বোঝান এবং নিজেরাও যেটা বুঝেন বলে মনে হয় —সেটা হচ্ছে কুফফারদের পরিয়ে দেওয়া চশমা দিয়ে দ্বীনকে দেখা। তাদের তৈরি করা বাউন্ডারির ভেতর অবস্থান করে দ্বীনকে পরখ করা। যদিও তারা এসব আমাদেরকে সরাসরিই বলেন না, কিন্তু তাদের কার্যক্রম, তাদের কথাবার্তা, তাদের চিন্তাধারা থেকে পরিপূর্ণ দ্বীনের বুঝ আছে, খোদার কালাম ও তাঁর হাবিবের নির্দেশনার পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ ইলম আছে —এমন যেকোনো মানুষই তাদের এই বিষয়টা (কুফফারদের পরিয়ে দেওয়া চশমা দিয়ে দীনকে দেখা ও তাদের তৈরি করা বাউন্ডারির ভেতর অবস্থান করে দ্বীনকে পরখ ক...

“বোধদয়”

Image
০১. আমি যতোই নিজেকে আধুনিক, যুগোপযোগী, প্রগতিশীল, মনোনশীল হিসেবে উপস্থাপন করেছি বা করতে চেয়েছি; ততোই আমি শেকড় হারিয়েছি। ততোই আমি আল্লাহর দীনের সীমানার বাইরে চলে গিয়েছি। যাদেরকে তুষ্ট করতে গিয়ে আমি এতো এতো প্রগতিশীল হবার চেষ্টা সাধনা করেছি, দিন শেষে দেখলাম তারা কখনোই আমার প্রতি পূর্ণ তুষ্ট হয়নি। আসলে তারা কখনো তুষ্ট হবেও না আমার প্রতি। যতক্ষণ না আমি আল্লাহ প্রদত্ত শাশ্বত দীনকে পরিপূর্ণ পরিত্যাগ না করি। কুরআন তো আমাকে সেই সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বেই জানিয়ে দিয়েছে যে, "কাফিররা তোমার প্রতি ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হবে না— যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তাদের মতোই হয়ে না যাও!"  [আল-বাক্বারাহ ১২০] আমি হিসেব নিকেশ করে দেখলাম, খোদার দীনের চিরন্তন দুশমনদেরকে আমি কখনোই সন্তুষ্ট করতে পারবো না। কখনোই না। যেহেতু তাদেরকে আমি সন্তুষ্ট করতেই পারবো না, তাহলে আমি আমার রবের বিধানের বাহিরে কেন যাবো? তারমানে কি দীনের দুশমন বা পথভ্রষ্ট ও জাহিলদেরকে সন্তুষ্ট করার সম্ভাবনা থাকলে আল্লাহর শাশ্বত ও সত্য দীনের বাহিরে যাবো? নাহ নাহ! এটা তো কস্মিনকালেও একজন মুসলিমের জন্য উচিৎ হবে না। সে এমন কিছু করা তো দূরের বিষয়, চিন্...