Posts

আল-জিহাদ ও মুসলিম উম্মাহ

Image
  মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর যে বিধানটার সাথে বেশি প্রতারণা করেছে, যে বিধানটাকে সবচেয়ে বেশি বিকৃত করেছে, সে বিধাটার নাম হলো আল-জিহাদ। জিহাদকে বিকৃত করতে করতে এখন আমরা এর অর্থ করেছি কেবল চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা। জিহাদ নিয়ে যে বা যারা কথা বলেন, তাদেরকে বানিয়ে দিয়েছি উগ্রবাদী। জঙ্গিবাদী। এখন অনেকেই অভিধান খুলে খুলে আমাকে দেখানোর চেষ্টা করবেন—দ্যাখো দ্যাখো, জিহাদ অর্থ চেষ্টা। জিহাদ অর্থ সাধনা। আমার কথা হলো দেখুন, আপনি তো কথিত সালাফিদেরকে অক্ষরবাদী বলে গাইল দেন, কিন্তু এখানে কি আপনিও তাদের চেয়ে বেশি অক্ষরবাদিতার পরিচয় দেননি? আসলে আমরা যদি কেবল শাব্দিক অর্থই খুঁজি বা খুঁজতে যাই, তাহলে দেখবো যে—সালাত অর্থ প্রার্থনা, দু'আ। অথচ দেখুন, আমরা আজান দেওয়ার পরে যে মসজিদে যাই তখন কি আমরা বলি— দু'আ করতে যাই? বলি না। কারণ এটা কেবলই একটা শব্দ না। সালাত শরিয়তের আলাদা একটা পরিভাষা। এটা একটা পরিপূর্ণ ও মিনিংফুল ইবাদাত। এটার আলাদা পদ্ধতি আছে। আলাদা উদ্দেশ্য আছে। নিয়ম-কানুন আছে। অথচ এই আমরাই জিহাদের কথা আসলে বলি যে, এটা অর্থ চেষ্টা-প্রচেষ্টা। না, এটা মানে কেবল চেষ্টা প্রচেষ্টা নয়। এর অর্থ এটা করে বরং এই ইবাদা...

“ইমাম মওদূদী রাহিমাহুল্লাহ : মুসলিম মানসে বিপ্লব সৃষ্টির মহানায়ক”

Image
পশ্চিমা এনলাইটেনমেন্টের কাছে ইসলামী বিশ্ব পরাজয়ের আগ পর্যন্ত মুসলমানদের দ্বীন ও রাষ্ট্র কখনো আলাদা ছিল না। ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বিভাজন ছিল না। ধর্মকে কেবল ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ করে ফেলারও বিন্দুবিসর্গ কোনো ধারণা মুসলিম মানসপটে ছিল না। কিন্তু যখনই পাশ্চাত্য সভ্যতা বিজয়ীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো, তখনই তারা তাদের নির্জীব ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে পৃথক করে ফেলে। ধর্মকে তারা এক প্রকার বন্দি করে ফেলে। এমনকি ব্যক্তিজীবনেও ধর্মকে এমন একটা বিষয়ে পরিণত করে যে, ইচ্ছে হলে তা মানা যায়, আর না মানলেও সমস্যা নেই; বরং জীবনকে কানায় কানায় ভোগ-উপভোগ করতে ব্যক্তিগত জীবনেও ধর্মকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করাটাই শ্রেয়—হয়ে যায় তাদের মানসিক অবস্থা! আর সেই থেকে বা তখন থেকে তাদের জীবন-দর্শনে ভোগবাদ-বস্তুবাদ, ধর্ম-দর্শনে আজ্ঞেয়বাদ ও নাস্তিকতা, অর্থনৈতিক দর্শনে এক সময় সমাজতন্ত্র অন্য সময় পুঁজিবাদ, এই দুয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতও ঘটে ব্যাপকভাবে। এরপর তারা সমাজ-রাষ্ট্র-পরিবার ও নৈতিক জীবনে সেক্যুলারিজম এবং লিবারেলিজমের কোলে আশ্রয় গ্রহণ করে সেগুলোকে আপন করে নেয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উৎস হিসেবে মানুষের বিবেক ও সম্মতিকেই গ্রহণ করে। স...

নব্য যুগের মুসলমান

Image
  মাওলানা মওদূদী রহ. এর কথাগুলো আপনার মনের কথাই বলবে। তিনি বলেন..... অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ও উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভকালে পাশ্চাত্য জাতিসমূহের দেশ জয়ের প্লাবন প্রচণ্ড ঝঞ্জাবেগে মুসলিম দেশগুলোকে নিমজ্জিত করে ফেলেছিল। এই সময়ে মুসলমানগণ অর্ধনিদ্রিত ও অর্ধজাগ্রত অবস্থায় ছিল এবং দেখতে দেখতে এই ঝঞ্জা-প্লাবন প্রাচ্য হতে আরম্ভ করে প্রতীচ্যের সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে গ্রাস করে ফেললো। উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে উপনীত হতে না হতেই অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্র ইউরোপের গোলাম হয়ে পড়লো এবং অপরাপর দেশগুলো গোলাম না হলেও পরাভূত ও প্রভাবিত হয়ে পড়লো। এই সর্বধ্বংসী বিপ্লব পূর্ণ দানা বেধে উঠবার পর মুসলমানদের চক্ষু উন্মিলিত হতে লাগলো। দিগ্বিজয় ও রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে উন্নতিশীল মুসলমানদের যে জাতীয় গৌরব সৃষ্টি হয়েছে, তা অপ্রত্যাশিতরূপে ধূলিস্মাৎ হয়ে গেল। অতঃপর ক্ষমতাবান শত্রুর উপর্যুপরি আঘাতে মাদকতামুক্ত মদ্যপায়ীর ন্যায় তারা স্বীয় পরাজয় এবং ইউরোপীয়দের জয় লাভের কারণ সম্পর্কে গবেষণা করতে লাগলো। কিন্তু তখনও মস্তিষ্ক প্রকৃতিস্থ হয়নি। মাদকতা যদিও কেটে গেছে, কিন্তু মানসিক ভারসাম্য তখনও বিকল রয়ে গিয়েছে। একদিকে অপমান-অ...

মাওলানা মওদূদী রহ. কি পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন?

Image
  উস্তাদ মওদূদীর রহ. এর বিরুদ্ধে একটা জঘন্য মিথ্যে অপবাদ হলো তিনি নাকি পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন। এই অপবাদ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকেও অনবদমিত করার চেষ্টা করা হয়। জামায়াতে ইসলামী নামক সংগঠনটির অনেক যৌক্তিক সমালোচনা করা যায়। এবং করা উচিৎও। কারণ যৌক্তিক সমালোচনাই মানুষকে সঠিক পথে আনে। যদি মানুষট সঠিক হয় আরকি। কিন্তু মিথ্যে অপবাদ হলে সঠিক সমালোচনাও গুরুত্ব হারায়। মানুষ বা উক্ত দলকে সংশোধন করার ইচ্ছে থাকলে প্রথমত মিথ্যাচার ছাড়া অতিগুরুত্বপূর্ণ। যা হোক, বলছিলাম মাওলানা মওদূদীর রহ. এর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার কথা। আপনি যদি ওনার রচিত  “মাসলায়ে কওমিয়াত”  (যেটা ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ নামে বাংলায় প্রকাশিত), পড়ে দেখেন, তাহলে দেখবেন যে, তিনি এটা লিখেছেনই যারা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে, তাদের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানকারী সেকুলার মুসলিম নেতারা উক্ত বইটাকে বহুল প্রচারও করেছেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ভিত্তিকে মজবুত করছে এই বইটাই। তবে মাওলানা মওদূদী পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের অনেক ভ্রান্তির বিরুদ্...

"পাপ ও পতনের পথ : পতনের শুরুটা যেভাবে হয়"

Image
একটু খারাপ লাগতে পারে। কঠিন মনে হতে পারে। হয়তো অনেকেই সহ্য করতে পারবেন না। বাঁকাচোখে দেখবেন। তবুও বলি। বলা কর্তব্য। আমাদের কাজ কিন্তু পৌঁছে দেওয়া। বলে যাওয়া। কে আমলে নিলো কে নিলো না, সেটা বিষয় না । পতন বলি বা পদস্খলন বলি, এটা মূলত শুরু হয় খুবই ছোটখাটো বিষয় থেকে। ছোটখাটো সুন্নাহ ছেড়ে দেওয়া, নানাবিধ ব্যক্তিগত আমলে শিথিলতা প্রদর্শন করা, একটু-আধটু ছাড়ের মানসিকতা—যেমন গোড়ালির নিচে প্যান্ট পরলে কী সমস্যা, নিকাব না করলে কী হইছে? বোরকা পরতে হবে, কুরআনে এরকম কিছু বলা আছে না-কি? বোরকা না পরে , মুখ না ঢেকে শালিন পোশাক পরলেও তো হয়।  মোল্লারা ইসলামকে কঠিন করে ফেলেছে। আল্লাহর ইসলাম এত কঠিন না। এরপর বলা হয়, সুন্নত না পড়লে তো আর গুনাহ নাই। ফরজটা পড়লেই যথেষ্ট। মিউজিক নিষেধের বিষয়ে হাদিস আছে ঠিক আছে, কিন্তু উস্তায কারজাভীর তো মত আছে যে, খারাপ কিছু না থাকলে সেটা হালাল। ( যদিও শেষ পর্যায়ের মত এটা না তাঁর, তাঁর ওয়েবসাইটে বিস্তারিত আছে। আমরা আস-সিলমে সেটার উদ্বৃত্তি অনুবাদ-সহ পোস্ট করেছি) এরপর শুরু হয়ে যায় মিউজিককে নরমালাইজ করা। যার প্রেক্ষিতে এটাকে নির্দোষ মতভিন্নতা হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু গভীরে যেতে চ...

বিকল্পের খোঁজে

Image
  যা বলতে চেয়েছি কিছু মানুষ আছেন, যাদেরকে কিছু বলা যায় না, কিছু স্বাভাবিক বিষয়ও জানানো যায় না। দেওয়া যায় না কোনো পরামর্শও। তাদেরকে কিছু জানানো হলে তারা কমন একটা ডায়ালগ ছুড়ে দেন এই বলে যে- বিকল্প দিন। মোটামুটি বুঝজ্ঞান হবার পর থেকেই কিছু কিছু মানুষের পক্ষ থেকে এই কমন ডায়ালগটা শুনতে পাচ্ছি, বা মাঝে মধ্যে নিজেও সে ডায়ালগটার মুখোমুখি হয়েছি বা এখনো হচ্ছি। কেন যেন মানুষের এ একটা বদ অভ্যেস হয়ে গেছে যে, কিছু থেকে কিছু বললেই তারা বলে- বিকল্প দিন। কিছু বললেই কেবল বিকল্প চায় তারা। কার কাছে চায়? আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছেই চায়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা স্বয়ং তাঁর পক্ষ থেকে সেই সাড়ে চৌদ্দশত বছর পূর্বেই রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামের মাধ্যমে বিকল্প দিয়ে রেখেছেন আমাদের জন্য। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের তো উচিত ছিল সেই বিকল্পটাকেই নিজ থেকেই খুঁজে নেওয়া। অনুসন্ধান করে নেওয়া এবং সেটা খুব সুন্দর করে মানুষের সামনে হাজির করা। আল্লাহর দেওয়া বিকল্পটাকেই নিজের জীবনে এবং আমাদের সার্বিক জীবনে বাস্তবায়ন করা। কিন্তু না, আমরা সেটা তো করিই না, বরং ভুল আর বিদআতে ডুবে থাকি। ভ্রান্তি আর গোমরাহিতে মজে থ...