Posts

||ইমাম নাসা'ঈ রহিমাহুল্লাহ-||

Image
  শাহাদাতের অমিয় সুধা পানে ধন্য হয়ে শহীদি ঈদগাহে শামিল হয়েছেন তিনিও।   কোনো ভয়-লোভ তাঁকে ছুঁয়ে দিতে পারেনি। সত্য প্রকাশ আর প্রচারে নিবেদিত প্রাণ একজন ইমামুল মুসলিমিন ছিলেন। নিজের জনপ্রিয়তা, প্রভাব ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কারো থেকে নেন নি বিন্দুমাত্র প্রতিশোধও। অথচ নিতে পারতেন খুবই সহজে। কিন্তু নিজের অবস্থান আর জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে কোনো গণ্ডগোল সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে জটিল করতে চান নি। নিজেকে ঘুটিয়ে নিয়েই তিনি পরিস্থিতিকে ঠান্ডা রাখতে সহয়তা করেছেন। নিজের দীর্ঘদিনের আবাসন ছেড়ে দিতে করেন নি কুন্ঠাবোধ। জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে ফুটে ওঠেছে ইনসাফ আর তাকওয়া, সাহস আর সততার প্রস্ফুটিত ফুল। সারাবছর জুড়ে নাফল সিয়াম আর স্বলাতে, গভীর রজনীর তাহাজ্জুদে সিক্ত করতেন আল্লাহ প্রেমের প্রলোভনে প্রলুব্ধ ও পিপাসিত হৃদয়কে। জীবনের মাঝে ছিলো এক অতুলনীয় আভিজাত্য। চেহারায় চিকচিক করতো যেনো জান্নাতি নূরের ছটা।দামি সব কাপড়চোপড় পরতেন তিনি। কুতুবে সিত্তাহর ইমামদের মাঝে তিনি ছাড়া এমন সুদর্শন শক্তিমান কাউকে দেখা যায় না। স্বাস্থ্য সচেতনতার ছিলেন এক অনন্য নযীরও। প্রতিদিন খেতেন মুরগির মাংস, রোস্ট। কিসমিস ও কিসমিসে...

||ইমাম তিরমিজি রহিমাহুল্লাহ||

Image
  "শাময়েলুন নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কিতাবুশ শামায়েল কিংবা শামায়েলে তিরিমিযী" হাদিস ভিত্তিক চরশো হাদিস সম্বলিত এই সুপ্রসিদ্ধ সিরাত গ্রন্থটির নাম কে না শুনেছে? কে জানে? হ্যাঁ, এই গ্রন্থটির সংকলকই হলেন  ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী ! এই গ্রন্থ ছাড়াও তিনি আরো অসংখ্য গ্রন্থ সংকলন ও রচনা করেছেন। যেই গ্রন্থের জন্যে তিনি সারাটা পৃথিবীবাসির নিকট অধিক গ্রহণীয় তা হলো সুনানুত তিরমিজি। যে গ্রন্থের জন্যেই তিনি আজ ইমাম তিরমিজিরূপে সারা পৃথিবীর উম্মাতে মুসলিমাহ'র নিকট অধিক পরিমাণে স্মরণীয়-বরণীয়। ওনার মূল নাম মুহাম্মাদ। পিতার নাম ঈসা। দাদার নাম সাওরাহ। উপনাম আবু ঈসা। নিসবতী নাম তিরমিযী। মূলত ওনাকে তিরমীযী বলা হয় তিরমিজ নামক শহরে জন্মগ্রহণ করায়। এই শহর উত্তর ইরানের বলখ নদীর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। সেখানে ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-সাহিত্যের ব্যাপক বিকাশ সাধন করে। যার কারণে তা 'শহরে জননী' কিংবা 'পুরুষের শহর' হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। শহরটির চারপাশ ছিলো প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত। প্রাচীরের ইটগুলোও ছিলো অত্যন্ত সুন্দর। মনোরম। কুরআন হাদিস চর্চার মারকাযও হয়ে ও...

||আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস : ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ- ||

Image
ইসলামের মূল স্তম্ভ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ ' লার প্রেরিত কিতাব মহা গ্রন্থ আল কুরআন। ইসলামি জ্ঞানের দ্বিতীয় স্তম্ভ আল-হাদিস। আলকুরআনের পরেই যেই গ্রন্থটির অবস্থান , তা হলো সহীহ্ আল বুখারী। এই মহাগ্রন্থের রচয়িতা ইমাম বুখারী নামে পরিচিত । সেদিন ছিলো শুক্রবার। ১৯৪ হিজরীর শাওয়াল মাসের ১৩ তারিখ । ৮১০ খ্রিস্টাব্দের ২১জুলাই জুমা ' আ বারে একসময়ের সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের নগরী উজবেকিস্তানের বুখারা শহরে তিনি পৃথিবীর বুকে আগমন করেন। বুখারা শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন বলেই বুখারী নামে সারাবিশ্বের কাছে পরিচিত হয়ে আছেন। কিন্তু তাঁর আসোল নাম হলো ;   মুহাম্মদ। উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। আরব রীতি অনুযায়ী পুরো নাম হলো আবু আব্দুল্লাহ্ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরা বিন বারদিযবাহ আলজু ’ ফী । তাঁর পূর্ব পুরুষেরা পারস্যের অধিবাসী। ওনার প্রপিতামহ মুগীরা পারস্য হতেই বুখারা শহরে এসে বসবাস করেন। এবং এখানকার শাসনকর্তার হাতেই তিনি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন । ওনার বাবাও ছিলেন একজন নামকরা মুহাদ্দিস । তাঁকে বাল্যকালেই হারাতে হয় স্বীয় পিতার স্নেহ-শাসন ও ভালোবাসা। তাঁর মা ছিলেন একজন পরহিজগার মুহসিন...