Posts

ইসলামী আন্দোলন ও রাজনীতি

Image
ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক নির্ভেজাল জীবন বিধান। ইসলামের পরিচয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর কালামে পাকে ইরশাদ করেন- اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ- অর্থাৎ ‘ নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ইসলামই একমাত্র দ্বীন। (সূরা আল ইমরান : ১৯) আমরা জানি, আল্লাহর দেয়া এই ইসলাম, এই জীবন বিধানে কোনো খুঁত নেই। ঘাটতি নেই। এটা পরিপূর্ণ। পবিত্র কালামে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু ওতা’আলা বলেন, اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَ اَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَ رَضِیۡتُ لَکُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا ؕ فَمَنِ اضۡطُرَّ فِیۡ مَخۡمَصَۃٍ غَیۡرَ مُتَجَانِفٍ لِّاِثۡمٍ ۙ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۳﴾ ‘ আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য একমাত্র দীন রূপে মনোনীত করলাম।’ (সূরা মায়িদা : ০৩) এরপর আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে এ-ও জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসলাম ছাড়া যদি অন্য কোনো মত-পথ ও মতাদর্শ কিংবা তন্ত্রমন্ত্র আমরা খুঁজি, তবে আল্লাহর কাছে কস্মিনকালেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। যারা ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুতে শান্তি আর স্বস্তি চায়, তারা ক্ষতিগ্রস্ত...

পাকিস্তান : ২০০ বছরের সংগ্রাম

Image
১৯৪৭ সালে নেহেরু, গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতৃত্ব বলতে লাগলেন বা দাবি করতে লাগলেন যে, ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলমান মিলে একজাতি। এবং এই জাতি ভারতীয় জাতি। আর তাদের সবার দেশ একটাই; সেটা হলো হিন্দুস্তান। তাদের সাথে অবশ্য কিছু মুসলিম নেতৃত্ব (আলিমগণও) যুক্ত ছিলেন। তবে তাদের এই দাবির শক্ত বিরোধিতা করেছেন তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তিনি দিয়েছিলেন দ্বিজাতি তত্ত্ব। জিন্নাহ তখন বলেছিলেন, "হিন্দু মুসলিমদের একই জাতি হিসেবে পরিচিত করা একটা স্বপ্নমাত্র। কারণ, হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মীয় দর্শন আলাদা, তাদের সামাজিক আচার-আচরণ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি ভিন্ন। এই দুই ধর্মের মধ্যে বিয়ে হয় না, তারা একত্রে খায় না। তারা আলাদা সভ্যতার অংশ, যে সভ্যতার মতাদর্শ ও ধ্যানধারণা ভিন্ন।" এর পূর্বেও ১৯৪০ সালে লাহোরে এক বক্তৃতায় ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূখণ্ড বা আলাদা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন জিন্নাহ। তবে জিন্নাহ কিংবা মুসলিম লীগের এই দাবিকে ধর্মতাত্ত্বিকভাবে শক্তিশালী করেছিলেন ইমাম সাঈয়েদ মওদূদী রহিমাহুল্লাহ। তাঁর লিখিত বইগুলোকে তাঁরা ব্যাপকভাবে প্রচার করতো। বিশেষ করে, মাসল’...

তাওহীদ ভিত্তিক সভ্যতা-সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ বিনির্মাণ কি খুব কঠিন কিছু?

Image
  তাওহীদ ভিত্তিক সভ্যতা-সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ বিনির্মাণ কি খুব কঠিন কিছু? তাওহীদ ভিত্তিক সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ বিনির্মাণ কি খুব কঠিন কিছু? বিশ্ব সভ্যতাকে আজো কি তাওহীদের বুনিয়াদের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব? আমরা যদি সরলীকরণ করে উত্তর প্রদান করি, তাহলে হ্যাঁ, সত্যিই অনেক বেশি কঠিন তা। এরজন্য প্রয়োজন অনেক বেশি ত্যাগ-তিতিক্ষার। প্রয়োজন অনেক বেশি পরিশ্রমের। প্রয়োজন অনেক বেশি ধৈর্যের! তবে এই ত্যাগ-তিতিক্ষা, ধৈর্য ও পরিশ্রমকে একপাশে রেখে আমরা যদি বাংলাদেশের বাস্তবতার দিকে মনোনিবেশ করে দেখি, তাহলে দেখবো যে- এটা আসলে খুবই সহজ এবং সম্ভবপর না হলেও, অনেকটাই সহজ এবং সম্ভবপর ব্যাপার। দেখুন, কাজী নজরুল ইসলামের হাত ধরেই কিন্তু বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিতে, বাংলা গান-কবিতায় ইসলামের শব্দাবলী ও মুসলিমদের ঐতিহ্য লালনকারী উপমা সমূহের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। অস্বচ্ছ অশালীন ও শিরকী সংস্কৃতির জয়জয়কার ছিলো যখন, তখন কিন্তু নজরুলই সাহসের শামিয়ানা টাঙিয়ে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক অনুসর্গগুলোকে নিয়ে, দ্বীনি পরিভাষাগুলো দিয়ে সাহিত্য সৃষ্টি শুরু করেছেন। বিশুদ্ধ সংস্কৃতির যে আবহ তিনি সৃষ্টি করেছেন, সেই পথ ধরে পরবর্তীতে আমাদ...

মা-বোনদের করণীয়.........

Image
যে সমস্ত নারীগণ স্বেচ্ছায় দ্বীন-ইসলামকে গ্রহণ করবেন, তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে মওদূদী রহিমাহুল্লাহ কিছু নসীহা পেশ করেছেন। বা কাজ বাতলে দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে- প্রথম কাজ : প্রথম কাজ হচ্ছে এই যে, আপনাদের জীবনকে ইসলামের ছাঁচে ঢালাই করুন। জাহেলিয়াতের প্রত্যেকটি বস্তুকে নিজেদের মধ্য থেকে খুঁটে খুঁটে বের করে দিন। ইসলাম ও জাহেলিয়াতের বিভিন্ন বিষয়কে পৃথক করার ক্ষমতা নিজেদের মধ্যে সৃষ্টি করুন। অতঃপর নিজেদের জীবন ক্ষেত্র পর্যালোচনা করুন এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখুন যে, সেখানে জাহেলিয়াতের কোন প্রভাব অবশিষ্ট আছে কিনা ? এ ধরনের যাবতীয় প্রভাব থেকে নিজেদের জীবন ক্ষেত্রকে মুক্ত করুন এবং নিজেদের চিন্তা, সামাজিকতা, চরিত্র এবং সমগ্র কর্মপদ্ধতিকে ইসলামের অনুগত করুন। দ্বিতীয় কাজ : দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে এই যে, আপনাদের গৃহের পরিবেশ সংশোধন করুন। এ পরিবেশে পুরাতন জাহেলিয়াতের যেসব রীতির প্রচলন আছে সেগুলোও দূরে নিক্ষেপ করুন এবং ইংরেজ শাসনামলে আধুনিক যুগের জাহেলিয়াতের যেসব প্রভাব আমাদের গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে সেগুলোকেও খতম করুন। বর্তমানে আমাদের গৃহে নতুন ও পুরাতন জাহেলিয়াতের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ঘটেছে।...

"নারীদের নিকাব করা তথা মুখ ঢাকার বিষয়ে ইমাম মওদূদী রহিমাহুল্লাহর অবস্থান কী?"

Image
  "নারীদের নিকাব করা তথা মুখ ঢাকার বিষয়ে ইমাম মওদূদী রহিমাহুল্লাহর অবস্থান কী?" সাঈয়িদ মওদূদী রহিমাহুল্লাহ স্বীয় পর্দা ও ইসলাম বইতে বলেন, ❝জ্ঞানেরও প্রয়ােজন নাই। আপনি নিজের মনকেই জিজ্ঞাসা করুন। আপন চক্ষুদ্বয়ের নিকটেই ফতােয়া তলব করুন। স্বীয় মানসিক পরীক্ষায় যাচাই-পর্যালােচনা করিয়া দেখুন। ভন্ডামির কথা পৃথক। ভন্ড-মুনাফিক যদি সূর্যের অস্তিত্ব স্বীকারকেও নিজের স্বার্থের পরিপন্থী দেখে তাহা হইলে সে দিবালােকের সূর্যের অস্তিত্ব অস্বীকার করিয়া বসিবে। যদি সত্যকে অবলম্বন করেন, তাহা হইলে স্বীকার করিতে হইবে যে, যৌন আবেগ-আবেদনের [Sex Appeal] বেলায় দেহের সমস্ত সৌন্দর্যের অধিকাংশই আল্লাহ তায়ালা মুখমন্ডলে দান করিয়াছেন। যদি কোন মেয়েকে আপনার বিবাহ করিতে হয়, আর যদি তাহাকে দেখিয়া শেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে চাহেন, তাহা হইলে সত্য করিয়া বলুন, তাহার কি দেখিয়া সিদ্ধান্ত করিবেন? এক তাে এই হইতে পারে যে, সে আপনার সম্মুখে মুখমন্ডল ব্যতীত তাহার সর্বাঙ্গ ঢাকিয়া থাকিবে। দ্বিতীয়ত এই হইতে পারে যে, সে কোন বাতায়নের ফাঁকে তাহার মুখাবয়ব দেখাইয়া দিল। বলুন এখন এই উভয় প্রকারের মধ্যে কোন্‌টিকে আপনি গ...

"দুটো বিষয়ই যদি জায়েজ হয় : এক্ষেত্রে করণীয় কী?"

Image
ইসলামি শরীয়ায় দুটো জিনিসই যদি জায়েজ হয়, সে দুই জায়েজ জিনিসের কোনো একটি বিষয় যদি কোনো একটি অধিক প্রচলিত থাকে, থাকে প্রতিষ্ঠিত, তো সে সমাজে বা সে অঞ্চল কিংবা দেশে সেটার মধ্যে অন্য আরেকটা জিনিস ফতোয়া দিয়ে ঢুকিয়ে সমাজের মধ্যে বিভেদ-বিশৃঙ্ক্ষলা সৃষ্টি না করাটাও এক উত্তম আখলাকের পরিচয়। এক জায়েজ-এর ভেতর অন্য কম-প্রচলিত, অপ্রতিষ্ঠিত জায়েজ বিষয়টাকে ফতোয়া দিয়ে প্রচলন করতে চাওয়া, প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করতে চাওয়াটা কখনোই ভালো আর উম্মাহ দরদী বিচক্ষণ মানুষের পরিচয় হতে পারে না। এসব যারা করে, এদের নিয়ত যা-ই হোক, এরা আদতে ফিতনাবাজ। উম্মাহর মধ্যে সংকট সৃষ্টিকারী, বিশৃঙ্খলা তৈরিকারী। এদেরকে কোনো ধরনের স্পেস না দেওয়াটাই কল্যাণকর! যেমন ধরুন, তারাবিহর সালাত, এটা ৮/২০ সবই জায়েজ এবং সুন্নাহভিত্তিক আমল।কিন্তু এখন যেখানে নিয়মিত ইখলাস-সহকারে বিশ রাকাআত হয়, কেউ যদি এখন এখানে অতি শুদ্ধবাধিতা দেখাতে এসে আট রাকাআত চালু করতে চায়, সে নিঃসন্দেহে ভুল কাজ করবে। তার দ্বারা অন্তত ঐক্য আর কল্যাণ বয়ে আসবে না মুসলিম উম্মাহর মধ্যে। আবার ধরুন, নারীদের নিকাব করা, অধিকাংশ আলিমের মত হচ্ছে নিকাব করতে হবে। মুখখোলা রাখা যাবে না। কিংব...