Posts

সফলতা

Image
সাফল্য কিংবা সফলতা মানব জীবনের এমন একটা অবস্থা যাকে পাওয়ার জন্য আমরা সবাই হন্যে হয়ে দিনরাত দৌড়াচ্ছি। ছোটবেলা থেকে আমাদের প্রত্যেকটি মানুষকে এভাবেই মানসিক ট্রেনিং দিয়ে বড় করা হয়েছে যে, জীবনে সফল হতেই হবে। ব্যর্থতার কোন মূল্য নেই, ব্যর্থ মানুষ জীবনযুদ্ধে পরাজিত একজন মানুষ। অক্সফোর্ড ডিকশনারি সফলতার সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে- Success  may refer to: Attainment of higher social status. Achievement of a goal, for example academic achievement. The opposite of failure. বাংলা করলে দাঁড়ায়-  উচ্চতর সামাজিক মর্যাদা অর্জন, নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন । পার্থিব জীবনের বিভিন্ন সময়ে ও পর্যায়ে সফলতার কিছু প্যারামিটার আছে। আবারো বলে নেই, এগুলো আমাদের পৃথিবীর জীবনের প্যারামিটার, এগুলো আমাদের মতন মানুষেরাই বানায় এবং নিয়ন্ত্রন করে। এবং আমরা অধিকাংশ মানুষই পুরোপুরি নিশ্চিত যে এগুলোই সফলতার মাপকাঠি। এক নজর দেখে নিন। পড়াশুনা, ডিগ্রী, উচ্চতর পড়াশুনা টাকা, আরো টাকা, আরো অনেক টাকা। যত কোটি টাকা তত বেশি সফলতা। ভালো চাকরি, ভালো বেতন জীবনযাত্রার উচ্চমান। বিদেশে প্রতিষ্ঠিত জীবন। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাল...

"শাইখুল মুজাহিদিন উমর আল মুখতার রহিমাহুল্লাহ”

Image
মরু সিংহখ্যাত শাইখুল মুজাহিদিন উমর মুখতার রহিমাহুল্লাহ। তিনি ২০ আগস্ট ১৮৫৮ (মতান্তরে ১৮৬২ সালে) সালে লিবিয়ার সিরনিকার আল-বুতনান জেলায় জানযুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহর দ্বীনের এই মুজাহিদ, দখলদার ও সাম্রাজ্যবাদীদের এই ত্রাশ ছোটোবেলায়ই নিজ বাবা-মাকে হারান। তাঁকে লালনপালন করেন শারিফ আল গারিয়ানী নামক এক ব্যক্তি। মূলত উমর আল মুখতারের বাবা মারা যাওয়ার পরে এতিম উমর আল মুখতারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন শারিফ আল-গারিয়ানি। দখলদারদের জম এই মর্দে মুজাহিদ ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টম্বর সাম্রাজ্যবাদী দখলদার ইতালীয় কা ফি র সেনাদের হাতে শাহাদাত বরণ করেন। শাহাদাতের অমিয় সুধা পানে যখন তিনি ধন্য হন, সে সময় তাঁর বয়স ছিলো ৭২ বছর। মরু সিংহ উমর মুখতারের জীবনটাই কেটেছে দাওয়াত-তারবিয়াত ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর মাধ্যমে। তিনি ১৮৯৯ সালে সুদান থেকে সাম্রাজ্যবাদী বর্বর ফরাসি কা ফি র দের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য চাদে গিয়েছিলেন। উসমানি সালতানাতের পক্ষেও তিনি একইভাবে জি হা দ করেছেন। মুসলিম ভূখণ্ড দখলকারী সা ম্রা জ্য বা দি ক্রু সে ডার সেনারা যখন উমর আল মুখতারকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে, তখন মানবতার দুশমন মুসোলিনির ইটাল...

সালামের সংস্কৃতি ও ইসলামী ছাত্রশিবির

Image
  ছাত্রশিবিরের ভাইদের যে জিনিসটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আজকে তা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, ইন শা আল্লাহ! গতানুগতিক আরো আট-দশজনের মতো আমিও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নেগেটিভাবেই জেনেছি বা তাদের সম্পর্কে নেগেটিভ বার্তাটা পেয়েই প্রথমদিকে তাদেরকে জেনেছি । কিন্তু সেটা খুব বেশি ভয়াবহরকম অবস্থার ছিলো না। এর পেছনে অবশ্য কয়েকটা কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো, সে সময় মিডিয়া আজকের মতো এতোটা এভেইলেবেল ছিলো না। সোশ্যাল মিডিয়া তো বলতে গেলে একেবারেই ছিলো না। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ছিলো, কিন্তু গ্রামের দিকে সবখানে কারেন্টও আবার ছিলো না। ছিলো না ডিশ-এন্টেনাও। আবার অন্যদিকে সাংগঠনিক কাজ কিংবা দাওয়াতও খুব জোরালো ছিলো না আমাদের গ্রামে, আমাদের ইউনিয়নে (অবশ্য এখনো তেমন নেই)। যার কারণে কোনোরকম জানাশোনা হয়নি পজিটিভলি। আবার নেগেটিভ বার্তাটাও সব সময় আহামরি কানে বাজেনি। যেভাবে ২০১১ থেকে ১৪-১৫ এর দিকের উঠতি তরুণদের কানে বাজতো আরকি। মনে হয় এলাকায় একবার রাজনৈতিক গণ্ডগোল বাঁধায় এলাকার মানুষ শিবির সম্পর্কে ভীষণ ভীতিকর কিছু আলাপ তুলেছিলো বা কথাবার্তা বলতেছিলো, কোনোভাবে সে আলাপগুলোই এসেছে আমার কানে। মনে হয় আমার প্রিয়...

সাঈয়েদ কুতুব শহীদ : ইনকিলাবের ইমাম

Image
সাঈয়েদ কুতুব ছিলেন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর একজন মুখলিস মুজাহিদ। তিনি ছিলেন ইসলামি জাগরণ বা মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত। তাঁর চিন্তাধারা, তাঁর লেখাজোখায় মুসলিমদের জং ধরা কলবে এক তীব্র ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। আত্মভোলা মুসলিমদের তিনি ঝাঁঝালো কলম দিয়ে জাগ্রত করেন। তাঁর এই জাগরণী জোয়ার রুখে দেওয়ার জন্যে তৎকালীন মিশরীয় স্বৈরাচার, ইসলাম বিরোধী অপশক্তিদের ক্রীড়নক সরকার ১৯৬৫ সালের ২৯-শে আগস্টে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর এই অধিনায়ক, তাকওয়াবান তাত্ত্বিক, কুরআনে হাফেজ নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করে দেয়। খোদাদ্রোহী জালিমদের দ্বারা বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ইনকিলাবের এ ইমাম।  সাঈয়েদের যে বইটা পৃথিবীর সকল খোদাদ্রোহী জালিমদের কলিজায় কম্পন আর ভীতির সৃষ্টি করে, সে বইটা হচ্ছে معالم فى الطريق -ইংরেজি: Milestones, যেটা বাংলায়  "ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা"। সাঈয়েদের চিন্তার সাথে পরিচিত হতে তাঁর রচিত তাফসীরগ্রন্থ ফি যিলালিল কুরআন এবং উক্ত বইটা অধ্যয়ন করা আবশ্যক। কারণ, معالم فى الطريق নামক এই একটা বই, এই একটা তত্ত্ব তাঁকে শাহাদাতের পেয়ালা পান করিয়েছে। কুতুবের লেখনি এতোটাই শক্তিমান ছিলো যে, যে ব্যক্তিই তাঁর লেখা...

ছাত্রলীগকে কেন বদরুল লীগ বলা হয়?

Image
১. নাম ছিলো তার বদরুল আলম। পড়তো সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অর্থনীতি বিভাগে। একটা মেয়েকে সে আকাঙ্ক্ষা করতো (তার বা তাদের ভাষায় ভালোবাসতো)। মেয়েটির নাম খাদিজা। পুরো নাম খাদিজা আক্তার নার্গিস। তো প্রেমিক পুরুষ বদরুল তার মনের কথা জানান দেয় খাদিজাকে। বারবার প্রস্তাব করে বা দেয় সে। কিন্তু মেয়েটি তার এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেয়। প্রস্তাবে সাড়া না পেলে যে কারোই মন খারাপ হতে পারে। এতোটুকুন স্বাভাবিকই। বদরুলেরও তাই হলো। মন খারাপ আরকি। কিন্তু তার বিষয়টি স্রেফ মন খারাপেই থেমে থাকেনি। সে এটাকে ক্ষোভে রূপ দেয়। এ থেকে তা প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা পর্যন্ত গড়ায়।     ২. ০৩-ই অক্টোবর , ২০১৬। অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও পৃথিবীতে বিশুদ্ধ ভোর ফুটেছে। ভোরের বিশুদ্ধ বাতাসের স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। কিন্তু সেই ভোরের বিশুদ্ধ বাতাস সিলেট মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজার জন্য বিশুদ্ধ না হয়ে পরিণত হয়েছে অভিশপ্ত এক ভয়ংকর সকালে।   অন্যান্য দিনের মতো আজো খাদিজা সকালের নাস্তা ও কাজকর্ম সেরে প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাসে যাবার। কিন্তু সে জানতো না তার জন্য...

আল-কুরআনের সূরাসমূহের অর্থ

Image
১. আল ফাতিহা (সূচনা) ২. আল বাকারা (গাভী) ৩. আল ইমরান (ইমরানের পরিবার) ৪. আন নিসা (নারী) ৫. আল মায়িদাহ (খাবার পরিবেশিত থালা) ৬. আল আনআম (গৃহপালিত পশু) ৭. আল আরাফ (উচ্চতা, শেখর) ৮. আল আনফাল (যুদ্ধ-লব্ধ ধনসম্পদ) ৯. আত তাওবাহ (প্রত্যাবর্তন) ১০. ইউনুস ( ইউনুস আঃ, একজন নবি) ১১. হুদ (হুদ আঃ, একজন নবি) ১২. ইউসুফ (নবী ইউসুফ) ১৩. আর রা’দ (বজ্রপাত) ১৪. ইব্রাহীম (ইবরাহিম আঃ, একজন নবি) ১৫. আল-হিজর (পাথর) ১৬. আন-নাহল (মৌমাছি) ১৭. বনি-ইসরাঈল ( ইয়াকুব (আ.)-এর অন্য নাম ইসরাঈল। তাঁর বংশধর, বর্তমানের ইহুদি জাতি ) ১৮. আল কাহফ (গুহা) ১৯. মারইয়াম (পবিত্র, ঈসা আঃ-এর মা) ২০. ত্বো-হা ( একটি আরবি বর্ণ) ২১. আল আম্বিয়া (নবীগণ) ২২. আল হাজ্জ্ব (হজ্জ) ২৩. আল মু’মিনুন (মুমিনগণ) ২৪. আন নূর (আলো) ২৫. আল ফুরকান (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) ২৬. আশ-শুআরা (কবিগণ) ২৭. আন-নামল (পিপীলিকা) ২৮. আল-কাসাস ( ঘটনা) ২৯. আল আনকাবুত (মাকড়শা) ৩০. আর রুম (রোমান জাতি) ৩১. লোকমান (একজন জ্ঞানী ব্যক্তির নাম) ৩২. আস সিজদাহ (সিজদা) ৩৩. আল-আহযাব (সম্মিলিত বাহিনী) ৩৪. সাবা (রানী সাবা) ৩৫. ফাতির ( উৎপত্তি, আদি স্রষ্টা) ৩৬. ইয়াসিন ( আরবির দুট...