Posts

"তাকলীদ ও মাযহাব অনুসরণ প্রসঙ্গে মওদূদীর অবস্থান"

Image
" তাকলীদ ও মাযহাব অনুসরণ প্রসঙ্গে মওদূদীর অবস্থান" মাজহাব-তাকলীদকে অনেক আলিম ওয়াজিব মনে করে থাকেন। আমাদের উপমহাদেশীয় ওলামায়ে কেরামের মতামতও অনুরূপ । যেমন আমাদের আকাবিরে দেওবন্দী উস্তাযগণ যে কোন এক মাজহাব মানাকে ওয়াজিব মনে করে থাকেন। পক্ষান্তরে সালাফি আলিমগণ চার মাযহাবের ইমামদের হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত মনে করেন কিন্তু যে কোনো এক ইমামের অনুসরণ ওয়াজির মনে করে না। তাঁরা যেসব আলিমের মাসআলা-মতামত-ইজতিহাদ কুরআন-সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী হবে , তাঁরা তারই অনুসরণ করতে বলে এবং করে থাকে। কিন্তু এদুয়ের মধ্যে ইমাম সাইয়েদ আবুল আ ’ লা মওদূদীর মতামত হচ্ছে সালাফি ওলামাদের অনুরূপ । তাঁর রাসায়েল ও মাসায়েলে কিতাবে উল্লেখ আছে যে , একবার একব্যক্তি তাঁকে এ-বিষয়ে প্রশ্ন করে , " চার ইমামের তাকলিদ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি ?" মওদূদীর জবাব ছিলো এমন , " আমার মতে আলেমে দ্বীন লোকদের সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ থেকে বিশুদ্ধ জ্ঞান হাসিলের চেষ্টা করা উচিত। এ গবেষনার কাজে অতীতের বড়ো বড়ো আলেমদের মতামত থেকেও সাহায্য নেয়া উচিত। তা ছাড়া সর্বপ্রথম পক্ষপাতিত্বের উর্ধ্বে উঠে উদার ও মুক্ত মন দিয়ে মতবিরোধ...

|| পৃথিবীর কেউ যদি ভালো না বাসে....||

Image
খুব বেশি আপন ভেবে, কাছের মানুষ ভেবে, খুব বেশি ভালোবেসে যে মানুষ বা যাদের কাছে মন খুলে দুটো কথা বলেন, একটু দুষ্টুমি করেন, ইনবক্স করেন, ম্যসেজ করেন, সাক্ষাতে স্মিত হেসে নিজের হৃদয়ের সবটুকুন কথাবার্তাও বলে ফেলেন হড়বড় করে, কষ্ট আর কান্নাসমূহকে উগরে দেন খুব সহজে, স্বাভাবিকভাবেই! কষ্ট আর ক্ষত-বিক্ষত হৃদয়ের ঝাঁপিটা খুলে হালকা হতে চান যার যাদের কাছে; দেখা গেছে সেই মানুষের কাছে, সেই ব্যক্তির কাছে আপনার এইসব আবেগ অনুভূতি মূল্যহীন। কোনো মূল্য নেই। আপনার কান্না কিংবা হাসি পায় না কোনো পাত্তা তার কাছে। আপনার সরলতায় গরল ঢেলে আপনাকে উল্টো আরো এমন কিছু কথা বলে, যে কথাগুলো আপনাকে কষ্ট দেয়। . আপনার সততা, আপনার আন্তরিকতা, নিখাঁদ-নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মমতা হচ্ছে তার কাছে, সেইসব মানুষদের কাছে ফাতরামি, ছ্যাঁচড়ামি, ইতরামি। আপনি সরল মনে মমতার বহর নিয়ে এগিয়ে আসেন, অথচ অপর পার্শ্ব থেকে আপনাকে কী জঘন্যরকমভাবেই না ইগনোর করা হয়, করা হয় অবহেলা ও অবজ্ঞা। এতে আপনার মন ভেঙে যায়। বুক ভেঙে মিসমার হয়ে যায়। আপনি মন খারাপের জগতে তলিয়ে যান। কখনো কখনো এমন অবিচ্ছেদ্য অবহেলা আর অবমূল্যায়নের কারণে আপনি কষ্টের কোলাহলে হারিয়ে যান।...

"প্র্যাক্টিসিং মুসলিম ও দ্বীনে ফেরা মানে কী?"

Image
"প্র্যাক্টিসিং মুসলিম ও দ্বীনে ফেরা মানে কী?" প্র্যাক্টিসিং মুসলিম, দ্বীনে ফেরা—এ-শব্দগুলো এখন একটা ট্রেন্ডে পরিণত হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের ওপরেই জন্ম দিয়েছেন। ফিতরাতগতভাবেই আমরা দ্বীন-ইসলামের অনুসারী। এর সমর্থনে আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি হাদিস আছে। যেখানে তিনি বলেন, "রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন প্রত্যেক সন্তানই ইসলামী ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইয়াহুদী, নাসারা অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে ফেলে। যেরূপে চতুষ্পদ জন্তু পূর্ণাঙ্গ জন্তুই জন্ম দিয়ে থাকে, এতে তোমরা কোন বাচ্চার কানকাটা দেখতে পাও কি? এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিলাওয়াত করলেন, فِطْرَةَ اللهِ الَّتِيْ فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيْلَ لِخَلْقِ اللهِ ذلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّم ‘‘আল্লাহর ফিতরাত, যার উপর তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টি রহস্যে কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল প্রতিষ্ঠিত দীন।’’[ বুখারী ১৩৫৮] এখন তো দেখি কেউ সালাত আদায় করলেই প্র্যক্টিসিং মুসলিম দাবি করে। মানে তাও হুট করেই কয়েকদিন সালাত আদায় করলেই তা দাবি করি। ...

//দ্বীনে দাখিল হও পূর্ণভাবে//

Image
সদ্য ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাঁরা। পূর্বে ছিলেন ইয়াহুদি। তবে ইসলাম গ্রহণ করলেও তাদের মধ্যে তাওরাতপ্রীতি তখনো রয়েছে বিদ্যমান। তাই তো তাঁরা তখনো উটের গোশত ভক্ষন করছেনা। উটের দুধ পান করা থেকেও রয়েছেন বিরত। এবং শনিবারকে করে যাচ্ছেন বিশেষ তা’জিম। কিন্তু বিষয়টি মুসলামানদের কাছে ভালো লাগছেনা। তাদের এহেন আরো কিছু আচরণ মুসলমানদের নিকট ভীষণ কষ্টদায়ক হয়ে যাচ্ছে। তাই তো তাঁরা এ-বিষয়ে আল্লাহর রাসুলের কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি সব শুনেছেন। সব শুনে সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী নওমুসলিমদের ডাকলেন। তাঁরা রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ও’সাল্লাম যখন তাদেরকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছেন, তখন তাঁরা বলেন — “হে আল্লাহর রাসুল, তাওরাত-ও তো আল্লাহরই কিতাব। আর তা ছাড়া আমরা তো খারাপ কিছু করছিনা। আমরা আল্লাহর এক কিতাব দিয়ে অন্য কিতাবকে শক্তিশালী-ই করছি কেবল। তাঁরা আল্লাহর রাসুলের কাছে এই বলে আবেদন করেছেন যে, ইয়া রাসুলাল্লাহ ! আমরা তো ইসলাম গ্রহণের পূর্বে শনিবার দিনটিকে খুবই তাজিম করতাম। আপনি আমাদেরকে কিছু বিষয়ের অনুমতি প্রদান করুন। আমরা রাতের বেলায় তাওরাত তিলাওয়াত করে যেনো নামাজ করতে পারি, তাওরাতের কিছু বিধিবিধানের আনুগত্য যেনো এখনো কর...

"ধর্ম কি শুধু অন্তরে থাকার বিষয়"?

Image
  একটা শ্লোগান খুব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইসলামপন্থী অনেক ভাইবোন এবং সাধারণ জনগণও তা খুব করে গিলছে। আর সেটা হলো , “ পৃথিবীটা মানুষের হোক ধর্ম থাকুক অন্তরে মসজিদে আজান হোক ঘন্টা বাজুক মন্দিরে ”   আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন- পূর্ণভাবে দ্বীনে দাখিল হও।[০১] ঈমানের মানে হলো তিনটি । ১. অন্তরে বিশ্বাস ২. মুখে স্বীকৃতি ৩. সেই বিশ্বাস আর কর্মকে কাজে পরিণত করা।   ঈমানের বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন , ঈমানের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে স্বীকারোক্তি এবং আত্মার প্রশান্তি। আর সেটা অর্জিত হবে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ ও সাথে সাথে তাকে আমলে পরিণত করার মাধ্যমে । [০২]   এই হলো ইসলাম। এই হলো ইসলামের ধর্মতত্ত্ব। ইসলাম তো শুধু ধর্ম নয় , এটা আমরা সকলেই জানি। ইসলাম পরিপূর্ন জীবনবিধান। অন্যান্য ধর্ম স্রেফ ধর্ম , কিন্তু ইসলামের রূপ হলো পূর্ণাঙরূপ। তাই ইসলামের উপস্থিতি থাকবে সর্বত্র। রাষ্ট্র থেকে সমাজ। পরিবার থেকে বিচারালয়। পৌরণীতি থেকে অর্থনীতি , ইসলাম সব জায়গায় সবখানেই কথা বলবে। বলে।   আল্লাহ পবিত্র কুরআনের যে আয়াতে বলেছেন “ পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্...