Posts

সাংস্কৃতিক যুদ্ধ এবং সোশ্যাল অ্যাকটিভিসমের মাধ্যমে কি দ্বীন কায়েম হয়ে যাবে? .

Image
১। সাংস্কৃতিক যুদ্ধ এবং সোশ্যাল অ্যাকটিভিসমের মাধ্যমে কি দ্বীন কায়েম হয়ে যাবে? . না, কেবল এটুকুর মাধ্যমে দ্বীন কায়েম হবে না। আরও স্পষ্ট করে বলি, কোন ভূখণ্ডের ওপর তামকীন বা কর্তৃত্ব অর্জন শক্তি প্রয়োগ ছাড়া সম্ভব না। নিছক দাওয়াহ, মাসজিদ-মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধি, অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে তামকীন অর্জন হবে না। গণতন্ত্রের মাধ্যমে তো আরও হবে না। . ইতিহাস থেকে এটা স্পষ্ট যে তামকীন আসে বল প্রয়োগের মাধ্যমে। এটা সুনানুল কাওনিয়্যাহ, মানব সমাজ ও ইতিহাসে মহান আল্লাহর নির্ধারিত অমোঘ নিয়ম। ইসলামের যে চূড়ার কথা নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীসে এসেছে সেটিই সর্বোত্তম পথ। অ্যাক্টিভিসম দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আলাদা কোন মানহাজ বা পদ্ধতি না। . . ২। তাহলে সোশ্যাল অ্যাক্টিভিসম করে কী লাভ, এটা কেন করবো? . করবেন কয়েকটা কারনে, . ক) যে কারণে আপনি মাসজিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন, মাদ্রাসা গড়ে তোলেন, সাদাকাহ করেন, বিভিন্ন দাওয়াতী মেহনত করেন, এগুলোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন, ঠিক একই কারণে সোশ্যাল অ্যাক্টিভিসম করবেন। . এই কাজগুলোর দ্বারাও যমীনে তামকীন অর্জন হবে না...

শিশুদের শেখানোর জন্য ৩০টি বেসিক প্রাকটিক্যাল টিপস

Image
  এখানে এমন কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের একটি তালিকা দেওয়া হলো, যা আমাদের শিশুদের শেখানো উচিত, যা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা থেকে আর্থিক লেনদেন এবং নিরাপত্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা মুসলিমরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও সমস্যার সমাধানের জন্য অনেক নির্দেশনা ও জ্ঞান পেয়েছি। আমাদের এই জ্ঞান আমাদের শিশুদের শেখানো উচিত যাতে তারা জীবনে হারিয়ে না যায় বা অন্ধকারে পথ চলতে না থাকে। মাঝে মাঝে অভিভাবকরা তাদের শিশুদের কাছে জীবনযাপনের ব্যাবহারিক জিনিসগুলো শেখানো ভুলে যান। অনেক সময় অভিভাবকরা এতটাই ব্যস্ত থাকেন বা শিশুদের খাওয়ানো এবং পরানোতে এতটাই মগ্ন থাকেন যে তারা বুঝতে পারেন না যে জীবনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো তাদের শিশুদের শেখানো উচিত। কিছু উদাহরণ: ১. জরুরি অবস্থায় (Emergency) কীভাবে কাজ করতে হবে: যদি শিশু হারিয়ে যায় বা মা-বাবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, আগুন লাগলে, কেউ অনুসরণ করলে ইত্যাদি অবস্থায় কী করতে হবে। ২. মা-বাবার ফোন নাম্বর মুখস্থ করা: জরুরি সময়ে মা-বাবার সাথে যোগাযোগ করার জন্য। ৩. নিজের বাসার সঠিক ঠিকানা জানা: হারিয়ে গেলে বা কারও সাহায্য প্রয়োজন হলে। ৪. খারাপদের...

নেতা নির্বাচনে পাঁচ ভুল

Image
  নেতৃত্ব সম্পর্কে আমাদের বেশ কিছু ভুল ধারণা আছে। নেতা নির্বাচনে আমরা এমন কিছু শর্ত জুড়ে দিই, যেগুলোর সাথে আসলে নেতা হবার যোগ্যতার কোনো সম্পর্ক নেই। আজ সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।  ১। নেতৃত্বের সাথে জ্ঞানের সম্পর্ক নেই একজন ভাই সাতটি ভিন্ন কিরআতে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। এটা বেশ ভালো গুণ। তাই বলে এই গুণের আলোকে তাকে নেতা বানাবেন না। নেতা হতে হলে তাকে সাতটি কিরআতে কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে না। কেউ কুরআন-হাদীসের উপর পিএচডি করতে পারেন, তাই বলে তাকে নেতা বানাবেন না। তার কাছে গিয়ে পারলে ইলম অর্জন করুন, কিন্তু শুধুমাত্র তার জ্ঞানের ফলে তাকে নেতৃত্বের আসনে বসাবেন না। জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষদেরকে নিয়োগ দিন। যেমন: মসজিদে ইমামতি করানোর জন্য কুরআন সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তিকে, ডাক্তার-শিক্ষকদের এসোসিয়েশনে জ্ঞানী ডাক্তার-শিক্ষকদের নিযুক্ত করুন। সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু, কাউকে নেতা বানানোর আগে তার কয়টা ডিগ্রি আছে, কতোটি সার্টিফিকেট আছে সেগুলো না দেখে সবার আগে দেখুন নেতৃত্ব দেবার মতো সক্ষমতা তার আছে কিনা। নেতৃত্ব দেবার সক্ষমতার পাশাপাশি যদি সে জ্ঞানী হয়, তাহলে তো বেশ ভালো...

ইকামাতে দীন কী? ইকামাতে দীনের ক্ষেত্রগুলো কী কী?

Image
  ইকামাতে দীন নিয়ে আমরা অনেকেই একটা ভুল কনসেপ্টের মধ্যে আছি। আমরা কেউ কেউ কেবল একটা জিনিসকেই ইকামাতে দীন মনে করি। অথচ ইকামাতে দীন খুবই বিস্তৃত একটা বিষয়ের নাম। ইকামাতে দীনের ক্ষেত্র হচ্ছে : ১. ব্যক্তিগত জীবন। ০২. পারিবারিক জীবন। ০৩. সামাজিক জীবন।  ০৪. রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবন।  সবার আগে গুরুত্ব বেশি কোনটার? অবশ্যই তা হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবন।     ব্যক্তিগত জীবনকে দীন অনুযায়ী ঢেলে সাজানোর জন্যই সিলেবাস অধ্যয়ন। রিপোর্ট রাখা। রাত্রি জাগরণ। তাহাজ্জুদ আদায়। নফল ইবাদাত। তালিম-তারবিয়াত। ব্যক্তিগত জীবনটা যদি দীন অনুযায়ী না হয়, তাহলে তো রাষ্ট্র পরের বিষয় আমার পরিবারেও দীন কায়েম সম্ভব নয়। সর্বোপরি আমার মুক্তিও সম্ভব নয়।  দীন কায়েমের কাজ তো এজন্যই করা, যেন আমি আল্লাহর কাছে মুক্তি পাই। পরকালে নাজাত পাই। নাকি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে?     এখন যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দীন কায়েম করতে চান, তারা যদি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যারা কাজ করেন, (যেমন তাবলীগ, মাদরাসা, পীর বুযুর্গ, লেখক, ওয়াজিন) তাদেরকে অবজ্ঞা করেন, তাহলে বুঝতে হবে হয় তাদের মধ্যে খোদার দীনের বুঝ ফয়দা হয়নি, ...

“আমার চাওয়া বনাম আল্লাহর চাওয়া”

Image
  রমাদান মাস। রোজার দিন। এই রোজা-অবস্থাতে আমার প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে। পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েছি। এখনো ইফতারের সময় হয়নি। এই দারুণ দুঃসময়ে কিছু খেতে মন চাচ্ছে। অন্তত এক ঢোক পানি হলেও খেতে পারলে ভালো লাগতো। কষ্টটা কম হতো। কী এক দারুণ দুঃসময় যাচ্ছে ! ত্রিশটা দিন কীভাবে অতিক্রম করবো, ভাবতেই পারছি না। বহু মানুষ এই কঠিন কষ্টের কারণেই রমাদানের সিয়াম পালন করতে পারছে না।  সে কারণে আমার মনে হয় ইফতারের সময়কে যুগের আলোকে সহজ (পড়ুন শরিয়াহকে যুগের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে পারলে) করতে পারলে রোজাদারের সংখ্যা অনেক বাড়তো। মানুষের কষ্ট কম হতো। যারা কষ্টের কারণে রোজা রাখছে না, তারাও হয়তো রোজা রাখতে শুরু করবে।  হয়তো বহু মানুষ এমনও আছেন, যারা এই ক্ষুত-পিপাসার কষ্ট সহ্য করতে পারে না বলেই ইসলাম গ্রহণ করে না। যারা করছে, তারাও রোজা রাখছে না। সিয়ামের মতো একটি ফরজ ইবাদাত লঙ্ঘন করছে।  যার কারণে আমি মনে করি বর্তমান যুগ ও বাস্তবতা বিবেচনায় রোজাকে একটু সহজ করা প্রয়োজন। সাহরি-ইফতারে একটু শিথিলতা প্রয়োজন।  হ্যাঁ, এগুলোই আমার চাওয়া। এসব আর এমনটাই আমি চাই। ইসলাম কিন্তু এটা না। এটা কেবলই আমার নফসের...

সবার কি সরকারের বিরোধিতা করা উচিৎ?

Image
শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক আজ অবধি জেইলে। আমীর হামজাও প্রায় ২/৩ বছর কারাগারে ছিল। এভাবে অনেক আলিমই কারাগারে ছিল বা এখনো আছে।  অথচ মানুষগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব কিন্তু কেউ দেয় না। কারণ, এদের অনেকেই হয়তো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা না। অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের লোক হলেও সেই দলের বড়সড় নেতা না। আবার অন্যদিকে তারা সেকুলার বুদ্ধিজীবী বা একাডেমিশিয়ানও না। এই যে এই মানুষগুলো বিপদে পড়ে আছে, কোন কারণে  জানেন? তাদের কিছু কার্যক্রম, কথাবার্তা সরকারের বিরুদ্ধে গিয়েছে।  অথচ বর্তমান বাস্তবতায় এদের বৃহৎ অংশরই কি মন্ত্রী কিংবা এমপি হবার ন্যুনতম সম্ভাবনা আছে? নেই তো। অধিকাংশ উপজেলা চেয়ারম্যানও হবে না। এমনকি বিদ্যমান বাস্তবতায়, এই আমীর হামজাও কি এমপি-মন্ত্রী হবার ন্যুনতম সম্ভাবনা আছে?  তবুও তারা কখনো কখনো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিছু বলে। আসলে কেউ ভুল করলে তার ভুলের বিরুদ্ধে বলতেই হবে, স্বাভাবিক।  কিন্তু আমরা যেকোনো দলই করি না কেন, আমরা আমাদের দলের ভুল শুনলে বা কেউ আমাদের দলের ভুলের বিরুদ্ধে কিছু বললেই সহ্য করতে পারি না। আপনি বাংলাদেশের যেকোনো দলের বিরুদ্ধেই কিছু বলে দেখুন না কেন, আপন...

রাজনীতি ও তারুণ্য

Image
  আমরা এবং আমাদের আশেপাশে সবাই অজস্র স্বপ্ন দেখি ও দেখে। চেখেমুখে সবার কতো সহস্র স্বপ্নের ভিড়। কিন্তু আমি আজতক এমন কাউকে পাইনি— যে স্বপ্ন দেখে ঢাকা মহানগরের মেয়র হবে। আড়াই কোটি মানুষের এই শহরকে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাসের উপযোগী করে সাজাবার মতো কোনো স্বাপ্নিক ব্যক্তির সাক্ষাৎ আমার চোখে খুব একটা মেলেনি। অথচ আমার আস্ত একটা জীবন কেটেছে এই স্বাপ্নিক কিশোর-তরুণদের সাথে কাজ করতে করতে। কতো মানুষকেই তো কতো স্বপ্ন দেখতে দেখেছি। কেউ মিউজিশিয়ান হবে। কেউ সাইন্টিস্ট হবে। কেউ একাডেমিশিয়ান হবে। কেউ সাংবাদিক হবে। কেউ লেখক-সাহিত্যিক হবে। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখে অনেক বড়ো ব্যবসায়ী হবে। কারো-বা স্বপ্ন যুগশ্রেষ্ঠ আলিম হবে। কারো আবার আকাঙ্ক্ষা ইঞ্জিনিয়ার হবে। কেউ চায় একজন নামকরা ডাক্তার হতে। আবার কেউ চায় প্রশাসক হতে। ব্যাংকার বা বিসিএস ক্যাডার হতেও চায় অগণিত স্বাপ্নিক তরুণ। কিন্তু এমন কাউকে পাইনি— যার স্বপ্ন শিক্ষাব্যবস্থাকে আমূল-পরিবর্তন করার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষার জন্য শিক্ষামন্ত্রী হবে। এই দেশটাকে এখানের মানুষের বোধ-বিশ্বাসের আলোকে খোলনলচে বদলে দেওয়ার স্বপ্নে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধান হতে চায়, এমন ...