Posts

“আমার চাওয়া বনাম আল্লাহর চাওয়া”

Image
  রমাদান মাস। রোজার দিন। এই রোজা-অবস্থাতে আমার প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছে। পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েছি। এখনো ইফতারের সময় হয়নি। এই দারুণ দুঃসময়ে কিছু খেতে মন চাচ্ছে। অন্তত এক ঢোক পানি হলেও খেতে পারলে ভালো লাগতো। কষ্টটা কম হতো। কী এক দারুণ দুঃসময় যাচ্ছে ! ত্রিশটা দিন কীভাবে অতিক্রম করবো, ভাবতেই পারছি না। বহু মানুষ এই কঠিন কষ্টের কারণেই রমাদানের সিয়াম পালন করতে পারছে না।  সে কারণে আমার মনে হয় ইফতারের সময়কে যুগের আলোকে সহজ (পড়ুন শরিয়াহকে যুগের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে পারলে) করতে পারলে রোজাদারের সংখ্যা অনেক বাড়তো। মানুষের কষ্ট কম হতো। যারা কষ্টের কারণে রোজা রাখছে না, তারাও হয়তো রোজা রাখতে শুরু করবে।  হয়তো বহু মানুষ এমনও আছেন, যারা এই ক্ষুত-পিপাসার কষ্ট সহ্য করতে পারে না বলেই ইসলাম গ্রহণ করে না। যারা করছে, তারাও রোজা রাখছে না। সিয়ামের মতো একটি ফরজ ইবাদাত লঙ্ঘন করছে।  যার কারণে আমি মনে করি বর্তমান যুগ ও বাস্তবতা বিবেচনায় রোজাকে একটু সহজ করা প্রয়োজন। সাহরি-ইফতারে একটু শিথিলতা প্রয়োজন।  হ্যাঁ, এগুলোই আমার চাওয়া। এসব আর এমনটাই আমি চাই। ইসলাম কিন্তু এটা না। এটা কেবলই আমার নফসের...

সবার কি সরকারের বিরোধিতা করা উচিৎ?

Image
শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক আজ অবধি জেইলে। আমীর হামজাও প্রায় ২/৩ বছর কারাগারে ছিল। এভাবে অনেক আলিমই কারাগারে ছিল বা এখনো আছে।  অথচ মানুষগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব কিন্তু কেউ দেয় না। কারণ, এদের অনেকেই হয়তো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা না। অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের লোক হলেও সেই দলের বড়সড় নেতা না। আবার অন্যদিকে তারা সেকুলার বুদ্ধিজীবী বা একাডেমিশিয়ানও না। এই যে এই মানুষগুলো বিপদে পড়ে আছে, কোন কারণে  জানেন? তাদের কিছু কার্যক্রম, কথাবার্তা সরকারের বিরুদ্ধে গিয়েছে।  অথচ বর্তমান বাস্তবতায় এদের বৃহৎ অংশরই কি মন্ত্রী কিংবা এমপি হবার ন্যুনতম সম্ভাবনা আছে? নেই তো। অধিকাংশ উপজেলা চেয়ারম্যানও হবে না। এমনকি বিদ্যমান বাস্তবতায়, এই আমীর হামজাও কি এমপি-মন্ত্রী হবার ন্যুনতম সম্ভাবনা আছে?  তবুও তারা কখনো কখনো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কিছু বলে। আসলে কেউ ভুল করলে তার ভুলের বিরুদ্ধে বলতেই হবে, স্বাভাবিক।  কিন্তু আমরা যেকোনো দলই করি না কেন, আমরা আমাদের দলের ভুল শুনলে বা কেউ আমাদের দলের ভুলের বিরুদ্ধে কিছু বললেই সহ্য করতে পারি না। আপনি বাংলাদেশের যেকোনো দলের বিরুদ্ধেই কিছু বলে দেখুন না কেন, আপন...

রাজনীতি ও তারুণ্য

Image
  আমরা এবং আমাদের আশেপাশে সবাই অজস্র স্বপ্ন দেখি ও দেখে। চেখেমুখে সবার কতো সহস্র স্বপ্নের ভিড়। কিন্তু আমি আজতক এমন কাউকে পাইনি— যে স্বপ্ন দেখে ঢাকা মহানগরের মেয়র হবে। আড়াই কোটি মানুষের এই শহরকে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাসের উপযোগী করে সাজাবার মতো কোনো স্বাপ্নিক ব্যক্তির সাক্ষাৎ আমার চোখে খুব একটা মেলেনি। অথচ আমার আস্ত একটা জীবন কেটেছে এই স্বাপ্নিক কিশোর-তরুণদের সাথে কাজ করতে করতে। কতো মানুষকেই তো কতো স্বপ্ন দেখতে দেখেছি। কেউ মিউজিশিয়ান হবে। কেউ সাইন্টিস্ট হবে। কেউ একাডেমিশিয়ান হবে। কেউ সাংবাদিক হবে। কেউ লেখক-সাহিত্যিক হবে। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখে অনেক বড়ো ব্যবসায়ী হবে। কারো-বা স্বপ্ন যুগশ্রেষ্ঠ আলিম হবে। কারো আবার আকাঙ্ক্ষা ইঞ্জিনিয়ার হবে। কেউ চায় একজন নামকরা ডাক্তার হতে। আবার কেউ চায় প্রশাসক হতে। ব্যাংকার বা বিসিএস ক্যাডার হতেও চায় অগণিত স্বাপ্নিক তরুণ। কিন্তু এমন কাউকে পাইনি— যার স্বপ্ন শিক্ষাব্যবস্থাকে আমূল-পরিবর্তন করার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষার জন্য শিক্ষামন্ত্রী হবে। এই দেশটাকে এখানের মানুষের বোধ-বিশ্বাসের আলোকে খোলনলচে বদলে দেওয়ার স্বপ্নে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধান হতে চায়, এমন ...

মার্গারেট মারকিউস থেকে মরিয়ম জামিলা : সত্যসন্ধানী এক মহীয়সী নারীর গল্প

Image
  পৃথিবীর সবচেয়ে ধনাঢ্য দেশ আমেরিকার নিউ ইয়র্কের এক ইহুদি পরিবারে তাঁর জন্ম। বস্তুবাদী সভ্যতার সবকিছুই তাঁর সামনে থরে থরে সাজানো। দুনিয়াকে কানায় কানায় ভোগ করার মতো আপাদমস্তক সব কিছুই তাঁর হাতের মুঠোয়। তবুও অন্যান্য আরো আট-দশজন সাদা চামড়ার মার্কিন নাগরিকের মতো তাঁর জীবনপদ্ধতি ছিল না। তিনি তাদের মাঝে জীবনের মহৎ কোনো উদ্দেশ্য দেখতে পেতেন না। বরং তিনি লক্ষ্য করলেন যে, তাদের জীবনে ভোগবাদিতাই যেন সব। নৈতিকতা তাদের কাছে মূল্যহীন, যেন তা অপাঙক্তেয় ও অপ্রয়োজনীয় একটি বিষয়। তিনি ভোগবাদী সভ্যতার উপায়-উপাদানগুলো থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখার চেষ্টা করে যেতে লাগলেন। তরুণী থাকাবস্থাতেই তিনি ছেলে ফ্রেন্ডদের সাথে আড্ডা দেওয়া, মদ্যপানের মজমায় মজে থাকা, মিউজিকের আসরে ডুবে থাকা, বাহারি রকমের সাজ-সজ্জায় নিজেকে প্রদর্শন করে বেড়ানো— এসবের কিছুতেই জড়াতেন না।  তিনি জীবনের আসল মানে ও সত্যিকার অর্থ খুঁজে পাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা থেকে নেমে গেলেন এক নিরন্তর অভিযাত্রায়। অবলম্বন করলেন এক গভীর অনুসন্ধানী পথ। জন্মসূত্রে ইহুদি হওয়ায় মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু পরিপূর্ণভাবেই নিবদ্ধ করলেন ইহুদি ধর্মের প্রতি। সে কারণেই...

ইসলাম কি চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়?

Image
    গত শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী একজন নওমুসলিম নারী ইসলামি চিন্তাবিদ মরিয়ম জামিলা বলেছেন— “আমরা যারা জীবন-বিধান হিসেবে ইসলামকে মেনে চলতে চাই, তাদেরকে এটা মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা এই দ্বীন মেনে চলার কারণে প্রতিক্রিয়াশীল আখ্যায়িত হওয়ায় তাদের ভীত হওয়া উচিৎ নয়। আমাদের অবশ্যই বুঝা উচিৎ যে, তাদের দেওয়া এই আখ্যা আমাদের কোনো ক্ষতি করবে না। বরং আমরা ইসলামকে কথিত যৌক্তিক, আধুনিক, বৈজ্ঞানিক, গতিশীল, উদার ও প্রগতিশীল করে কাফিরদেরকে তুষ্ট করার চেষ্টা করাটাই আমাদের জন্য ক্ষতিকর।” ( ইসলাম ও জাতীয়তাবাদ, মরিয়ম জামিলা : পৃষ্ঠা-১১)। মুহতারিমা মরিয়ম জামিলার (রহ.) এই কথাটা যে কতোটা যুৎসই এবং বাস্তব-সম্মত, এর প্রমাণ আমরা আমাদের সিউডো ইন্টেলেকচুয়াল মুসলিম ভাইবোনদের জীবনের প্রত্যেকটি পরতে পরতে দেখতে পাই। আমরা দেখতে পাই যে, পাশ্চাত্যের একজন লিবারেল-সেকুলার ব্যক্তি তাঁর আদর্শের ব্যাপারে যতোটা দৃঢ়, একজন বস্তুবাদী তার পিউর বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণাকে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যতোটা কট্টর, এর ধারে কাছেও আমাদের মধ্যে অবস্থিত কথিত ক্রিটিকাল থিংকিংওয়ালা ইসলামিক স্কলার পদধ্বারীর...

আল-জিহাদ ও মুসলিম উম্মাহ

Image
  মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর যে বিধানটার সাথে বেশি প্রতারণা করেছে, যে বিধানটাকে সবচেয়ে বেশি বিকৃত করেছে, সে বিধাটার নাম হলো আল-জিহাদ। জিহাদকে বিকৃত করতে করতে এখন আমরা এর অর্থ করেছি কেবল চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা। জিহাদ নিয়ে যে বা যারা কথা বলেন, তাদেরকে বানিয়ে দিয়েছি উগ্রবাদী। জঙ্গিবাদী। এখন অনেকেই অভিধান খুলে খুলে আমাকে দেখানোর চেষ্টা করবেন—দ্যাখো দ্যাখো, জিহাদ অর্থ চেষ্টা। জিহাদ অর্থ সাধনা। আমার কথা হলো দেখুন, আপনি তো কথিত সালাফিদেরকে অক্ষরবাদী বলে গাইল দেন, কিন্তু এখানে কি আপনিও তাদের চেয়ে বেশি অক্ষরবাদিতার পরিচয় দেননি? আসলে আমরা যদি কেবল শাব্দিক অর্থই খুঁজি বা খুঁজতে যাই, তাহলে দেখবো যে—সালাত অর্থ প্রার্থনা, দু'আ। অথচ দেখুন, আমরা আজান দেওয়ার পরে যে মসজিদে যাই তখন কি আমরা বলি— দু'আ করতে যাই? বলি না। কারণ এটা কেবলই একটা শব্দ না। সালাত শরিয়তের আলাদা একটা পরিভাষা। এটা একটা পরিপূর্ণ ও মিনিংফুল ইবাদাত। এটার আলাদা পদ্ধতি আছে। আলাদা উদ্দেশ্য আছে। নিয়ম-কানুন আছে। অথচ এই আমরাই জিহাদের কথা আসলে বলি যে, এটা অর্থ চেষ্টা-প্রচেষ্টা। না, এটা মানে কেবল চেষ্টা প্রচেষ্টা নয়। এর অর্থ এটা করে বরং এই ইবাদা...

“ইমাম মওদূদী রাহিমাহুল্লাহ : মুসলিম মানসে বিপ্লব সৃষ্টির মহানায়ক”

Image
পশ্চিমা এনলাইটেনমেন্টের কাছে ইসলামী বিশ্ব পরাজয়ের আগ পর্যন্ত মুসলমানদের দ্বীন ও রাষ্ট্র কখনো আলাদা ছিল না। ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বিভাজন ছিল না। ধর্মকে কেবল ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ করে ফেলারও বিন্দুবিসর্গ কোনো ধারণা মুসলিম মানসপটে ছিল না। কিন্তু যখনই পাশ্চাত্য সভ্যতা বিজয়ীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো, তখনই তারা তাদের নির্জীব ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে পৃথক করে ফেলে। ধর্মকে তারা এক প্রকার বন্দি করে ফেলে। এমনকি ব্যক্তিজীবনেও ধর্মকে এমন একটা বিষয়ে পরিণত করে যে, ইচ্ছে হলে তা মানা যায়, আর না মানলেও সমস্যা নেই; বরং জীবনকে কানায় কানায় ভোগ-উপভোগ করতে ব্যক্তিগত জীবনেও ধর্মকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করাটাই শ্রেয়—হয়ে যায় তাদের মানসিক অবস্থা! আর সেই থেকে বা তখন থেকে তাদের জীবন-দর্শনে ভোগবাদ-বস্তুবাদ, ধর্ম-দর্শনে আজ্ঞেয়বাদ ও নাস্তিকতা, অর্থনৈতিক দর্শনে এক সময় সমাজতন্ত্র অন্য সময় পুঁজিবাদ, এই দুয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতও ঘটে ব্যাপকভাবে। এরপর তারা সমাজ-রাষ্ট্র-পরিবার ও নৈতিক জীবনে সেক্যুলারিজম এবং লিবারেলিজমের কোলে আশ্রয় গ্রহণ করে সেগুলোকে আপন করে নেয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উৎস হিসেবে মানুষের বিবেক ও সম্মতিকেই গ্রহণ করে। স...