Posts

পারস্পরিক বিরোধিতা : গণতন্ত্রের অনিবার্য বাস্তবতা

Image
  গণতন্ত্রের ব্যাপারটাই এমন— এখানে একটা শত্রু পক্ষ লাগবেই। সেই শত্রুপক্ষ যত ভালো কাজই করুক, তার ভালো কাজগুলো হাইলাইট করা হবে না, বরং সেই পক্ষের নেগেটিভ দিকগুলোই মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।  অপরের দোষগুলো তুলে ধরা আর সব সময় নিজের গুণাবলিকে মানুষের সামনে ফুটিয়ে তোলাটাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন।  গণতন্ত্রে যেহেতু সবাই মানুষকে কনভিন্স করেই ক্ষমতায় যেতে চায়, সেহেতু মানুষকে নিজের দলের দিকে কীভাবে নিয়ে আসা যায়, আর অন্য পক্ষ থেকে কীভাবে জনতাকে দূরে সরানো যায়; সেই চিন্তা, সেই কৌশল নিয়ে সব সময়ই ব্যস্ত থাকতে হয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোকে। সুতরাং, এর আলোকে স্পষ্টভাবেই বলা যায় যে, গণতন্ত্রের স্বার্থে একদল অন্য দলের বিরোধিতা করবেই— বিশেষত যাকে সবচেয়ে বড়ো এবং বেশি প্রতিদন্ধী মনে হবে, তার ব্যাপারে এমনটা হবেই। ইউরোপ-আমেরিকা যেহেতু বিশ্বের নিয়ন্ত্রক, সেহেতু তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য নিজেদের মধ্যে খুনোখুনিটা খুবই কম। এই খুনোখুনির ব্যাপারটা তাদের মধ্যে যদি বেশি ঘটে, তাহলে তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, ইত্যাদি টুলসগুলো দিয়ে বিশ্বক...

বিএনপি: মরীচিকার রাজনীতি

Image
  ১. বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট হলো— এই দলের কোনো সুসংহত আদর্শ বা মহান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। সাধারণ মানুষ আদর্শিক টান থেকে বিএনপিকে বেছে নেয় না; বরং তারা বিএনপিকে দেখে একটি বিকল্প আশ্রয়স্থল হিসেবে— আওয়ামী লীগের জুলুম থেকে বাঁচার সাময়িক ছায়া। ২. বিএনপির আরেকটা বড়ো সংকট কিংবা ব্যর্থতা হলো রাজনৈতিক ভাষ্য নির্মাণে ব্যর্থতা। বিএনপি কখনোই নিজস্ব বয়ান বা দর্শন গঠনে সক্ষম হয়নি।  এদেশে একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকার জন্য যেমন আদর্শ দরকার, তেমনি দরকার সময়োপযোগী রাজনৈতিক ভাষ্য।  এই দুই ক্ষেত্রেই বিএনপি দুর্বল, যার ফলে তারা ক্রমাগত জনগণের আস্থার বাইরে চলে যাচ্ছে। ৩.  বিএনপি আদতে আওয়ামী লীগের বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই গড়ে ওঠেছিল। আজও তারা সেই ভূমিকাতেই আটকে আছে— শুধু বিরোধিতা, প্রতিস্থাপন বা প্রতিশোধের রাজনীতি। এর বাইরের কোনো দৃষ্টিভঙ্গি তারা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি।  ৪. হতাশ ও বার্নআউট ইসলামপন্থী এবং বামপন্থীদের সাময়িক আশ্রয়স্থল:  প্রথমত, এক শ্রেণির ইসলামপন্থী ও বামপন্থী রয়েছেন, যারা ইসলামি আদর্শভিত্তিক (বামদের ক্ষেত্রে তাদের আদর্শভিত্তিক) রাজনী...

পলাশীর যুদ্ধ: মুসলিম সালতানাতের পতন সাম্রাজ্যবাদের উত্থান ও নিয়ন্ত্রণহীন ইতিহাস

Image
বাংলার  আদিপর্ব: সভ্যতার সূচনা ও ঈমানের উত্তরাধিকার ১. প্রাচীন বাংলার জাতিগোষ্ঠীগত ক্রমধারা • সর্বপ্রথম বাস করত অস্ট্রিক, মঙ্গোলয়েড ও কিরাত জাতিগোষ্ঠী। • তারা নগর সভ্যতা গড়তে পারেনি, তবে কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। • অস্ট্রিকরা খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০-৫০০০ সালের মধ্যে উপমহাদেশে আগমন করে। ২. দ্রাবিড়দের আগমন ও সভ্যতার সূচনা • খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০-৩০০০ সালে দ্রাবিড়রা উপমহাদেশে আসে। - গড়ে তোলে মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার নগরসভ্যতা। - নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, তারাই ভারতবর্ষের নগর সভ্যতার প্রবর্তক। - বাংলায় উয়ারি-বটেশ্বরকেও এই সভ্যতার নিদর্শন বলে মনে  করেন অনেকে। ৩. দ্রাবিড়দের ধর্মীয় পরিচয় ও বংশসূত্র -  দ্রাবিড়রা ছিল নূহ আ. ছেলে শামের বংশধর। মহাপ্লাবনের পর নূহ আ. তিন ছেলে ছিল। একজনের নাম হাম, অন্যজনের  নাম শাম এবং আরেকজনের নাম ইয়াফিস। - সে হিসেবে দ্রাবিড়দেরকে সেমেটিক বলেও  মনে করা  হয়। - তবে ঐতিহাসিক গোলাম হোসেন সলিমের মতে, হামের ছেলে 'হিন্দ'-এর মাধ্যমেই এই অঞ্চলে বসতি শুরু হয়। - ‘বঙ্গ’ ছিলেন হিন্দের একজন পুত্র, তার সন্তানেরাই  বাংলা ...

প্রজ্ঞা ও পরিণত নেতৃত্বের জয়

Image
 আলহামদুলিল্লাহ! কোনো উত্তেজনা, অস্থিরতা, বাড়াবাড়ি কিংবা অহেতুক চাপসৃষ্টির পথ বেছে না নিয়েই, আবারও বিজয়ের মুকুটে অভিষিক্ত হলেন আমীরে জামায়াত, ডা. শফিকুর রহমান। তবে এ বিজয় ভিন্নধর্মী একটি বিজয়। এটি একটি চিন্তার বিজয়, একটি কৌশলগত পরিপক্বতার বিজয়, একটি রাষ্ট্রদর্শনভিত্তিক প্রস্তাবনার বিজয়। তথাকথিত ‘বিপ্লবী সরকার’ এপ্রিলে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছিল, আর অপরদিকে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছিল— তখন দৃশ্যপটে একটি অব্যক্ত অচলাবস্থা ঘনিয়ে আসছিল। দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থানকারী পক্ষ দুটোর মধ্যে কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে অনিচ্ছুক থাকায়, স্পেশালি বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি থেকে পিছু হটতে অনিচ্ছুক থাকায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছিল। এই অচল পরিস্থিতির ভেতরে আগে থেকেই নীরব প্রত্যয়ে একটি দুরদৃষ্টির সাথে সুন্দর একটি মতামত প্রদান করেছিলেন একজন চিন্তাশীল নেতা— ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আবেগের নয়, প্রজ্ঞার ভাষায় বলেছিলেন, “নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ফেব্রুয়ারি হতে পারে। এপ্রিল মাস পার হওয়া অনুচিত।” এই বক্তব্য তিনি প্রথম উত্থাপন করেন ঢাকায় স...

জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন ও এটিএম আজহার

Image
  একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন কি? দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েও এটিএম আজহার সাহেব তার আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন বা চিন্তাচেতনায় একচুল পরিমাণও বিচ্যুত হননি। মুক্তিলাভের পর যখন পুনরায় তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন প্রকাশ করেছেন, তখনই স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়ে বলেছেন: "ইসলামকে নিয়েই ক্ষমতায় যেতে চাই। ইসলামকে রেখে আমি ক্ষমতায় যেতে চাই না। আমি ক্ষমতায় গেলে হয়তো মন্ত্রী হতে পারব, কিন্তু ইসলাম তো ক্ষমতায় যাবে না। ইসলামকে সাথে নিয়েই ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সার্থক হবে। শহীদ ভাইয়েদের আত্মত্যাগও সার্থক হবে।"  তিনি অন্য আরেকটি বক্তব্যে বলেছেন— "আমার জীবনে পাওয়ার মতো আর কিছু নেই। কেবল এই জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে— এটাই দেখে যেতে চাই।" আজহার সাহেবের এই ঘোষণা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহীদ নেতাকর্মী ও কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যু বরণকারী নেতৃবৃন্দের অভিব্যক্তিরই প্রতিফলন। তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটিই— ইসলামের বিজয়। শহীদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে সম্ভবত ব্যতিক্রম শুধু একজনই ছিলেন— যিনি পোস্ট-ইসলামিজম' -এর কথা ভাবতেন। আজহ...

“জেন্ডার ভিক্টিমহুডের রাজনীতি”

Image
  পুরুষদেরকে সারাদিন গালি দিলেও পুরুষরা এসে জেন্ডার কার্ড ইউজ করে ভিক্টিম সাজে না। বলে না— পুরুষ জাতিকে ছোটো করা হচ্ছে, পুরুষ জাতির অসম্মান করা হচ্ছে বা এই টাইপের কোনো আজগুবি কথা।  অথচ, পুরুষ শুধু গালি খায় না, মাইরও খায়। খুনও হয়। পুরো জীবনটাই ধ্বংস হয়ে যায় তাদের। তার মানে কি নারীদের খুন হতে হয় না? হয়। কিন্তু তুলনাটা আশা করি বুঝেন এবং জানেন। যুদ্ধে, দুর্যোগে, যেকোনো সংকটে ও সংঘাতে— সব সময়, সবচেয়ে বেশি যে বা যারা মারা যায়, আহত হয়, রক্তাক্ত হয়, তারা হলো এই পুরুষ জাতি। এই যে জুলাই ম্যাসাকার গেলো, এই জুলাই ম্যাসাকারে শাহাদাত  বরণকারী প্রায় ৯৯.৫০% পুরুষই। এমনকি যারা গুলি খেয়েছে, যারা পঙ্গু হয়েছে, হসপিটালাইজড হয়েছে— তাদের মধ্যেও ৯৯%ই পুরুষ।  এভাবে প্রত্যেটা দুর্যোগে, প্রত্যেকটা দুর্ভোগে, প্রত্যেকটা সংকটে পুরুষরাই জীবন বিলিয়ে দেয়। পুরুষরাই নিজেদের শক্ত বাহু দ্বারা দুনিয়াটাকে আগলে রাখে।  পুরুষরাই নারীকে প্রটেক্ট করে। শুধু নারীকে না, পুরো মানবসভ্যতাকেই ধ্বংসের হাত থেকে হেফাজত করে।  পুরুষ যদি ধর্ষক হয় বা অপরাধ করে, তবে আবার সেই পুরুষই এগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে...

জামায়াত-শিবির কীভাবে একাত্তর ইস্যুটাকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে পারবে?

Image
  জামায়াতের জন্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটা নির্মম বাস্তবতা হলো— বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এমনকি কমিউনিস্ট-সোশালিস্টরাও যদি বিলিন হয়ে যায়, তবুও একাত্তর জামায়াতের পিছু ছাড়বে না। ছাড়বে না বলতে ছাড়বে না। কোনো ক্রমেই না। যদি না একটা পূর্ণাঙ্গ ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত করতে পারে তারা।  বর্তমান যে রাজনৈতিক কাঠামো, যে তাগুতি ও কুফুরি ব্যবস্থা, এই ব্যবস্থায় জামায়াত শুধু ব্যবহৃতই হবে। আজ এই গ্রুপ থেকে তো কাল ওই গ্রুপ— জামায়াত একাত্তর ইস্যুতে ছোবল খাবেই। নির্মমতার মুখে পড়বেই। আবার এই নির্মমতার কারণে আজকে কেউ সহানুভূতি প্রদর্শন করে পাশে দাঁড়াবে তো কালকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তখন অন্য কেউ এসে আবার নিপীড়ন চালাবে। আবার কেউ দু'চারটা সহানুভূতিমূলক কথাবার্তা বলবে। আবার পল্টি নেবে। একটি পরিপূর্ণ ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত করা ছাড়া, এই অসহায়ত্ব জামায়াতের পিছু কখনোই ছাড়বে না। মাত্রাটা কমবে বা বাড়বে। এই আর কি! কিন্তু, প্রশ্ন হলো, জামায়াত-শিবির বর্তমানে বিপ্লবী মানসিকতা কতখানি রাখে? কতটা শক্তিশালী পরিকল্পনা আছে একটা টেকসই ইসলামি বিপ্লব সাধনের জন্য? হ্যাঁ, তারা ইসলামি হুকুমত কায়েমের জন্যই রাজনীতি...